থাইল্যান্ডে আজ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশটির নাগরিকেরা একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটে অংশ নিচ্ছেন। ২০১৭ সালে সামরিক শাসনামলে প্রণীত সংবিধান পরিবর্তন করা হবে কি না সে বিষয়ে জনগণের মতামত নেওয়া হচ্ছে এই গণভোটের মাধ্যমে।
আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী অনুতিন চার্নভিরাকুলের নেতৃত্বাধীন ভূমজাইথাই পার্টি এই নির্বাচনে অন্যতম শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী। রাজতন্ত্র ও সামরিক প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত দলটি রক্ষণশীল গোষ্ঠীর সমর্থন পাচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। গত সেপ্টেম্বরে প্রধানমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর অনাস্থা প্রস্তাবের মুখে সংসদ ভেঙে দিয়ে তিনি আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় অনুতিন অর্থনৈতিক প্রণোদনা, জাতীয় নিরাপত্তা এবং প্রতিবেশী কম্বোডিয়ার সঙ্গে সীমান্ত উত্তেজনাকে গুরুত্ব দিয়েছেন। সীমান্তে সংঘর্ষকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট জাতীয়তাবাদী আবেগও তার প্রচারণায় প্রভাব ফেলেছে।
নির্বাচনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বী পেউ থাই পার্টি। কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রার রাজনৈতিক ধারার উত্তরসূরি হিসেবে পরিচিত দলটি অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন ও নগদ সহায়তার মতো জনতাবাদী প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। দলটির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী হিসেবে মনোনীত হয়েছেন থাকসিনের ভাতিজা ইয়োদচানান ওংসাওয়াত।
এদিকে গণভোটে সংবিধান পরিবর্তনের প্রশ্নে দেশটি স্পষ্টভাবে বিভক্ত। গণতন্ত্রপন্থিদের দাবি, নতুন সংবিধান প্রণয়ন হলে সেনাবাহিনী ও বিচার বিভাগের মতো অনির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের প্রভাব কমবে। তবে রক্ষণশীলদের আশঙ্কা, সংবিধান সংশোধন রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে।

