মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরানোর আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল। গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) ওই এলাকায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) তীব্র বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুই নারী এবং দুই শিশুও রয়েছে। এই হামলায় আহত হয়েছেন আরও কমপক্ষে ৩৭ জন, যাদের অনেকের অবস্থাই আশঙ্কাজনক।
গত কয়েকদিন ধরে চলমান যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করে দুই পক্ষই পাল্টাপাল্টি হামলায় লিপ্ত হওয়ায় সীমান্ত পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এই অভিযানের পক্ষে জোরালো সাফাই গেয়েছেন। তিনি বলেন, “যেকোনো পরিকল্পিত বা আসন্ন হামলার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার ইসরায়েলের রয়েছে।” নেতানিয়াহু আরও স্পষ্ট করেন যে, তাদের এই অভিযান কেবল কোনো হামলার প্রতিক্রিয়া নয়, বরং যেকোনো উদীয়মান হুমকি নস্যাৎ করার ক্ষেত্রে তারা পূর্ণ সামরিক স্বাধীনতা বজায় রাখবেন।
হামলার পরপরই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের বাসিন্দাদের দ্রুত এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে। যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের অভিযানের আশঙ্কা থেকেই এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বেসামরিক এলাকায় এই প্রাণহানি এবং হাজার হাজার মানুষকে ঘরছাড়া করার নির্দেশ আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, বেসামরিক লক্ষ্যবস্তুতে হামলা এবং ব্যাপক প্রাণহানি পুরো যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়াকে অকার্যকর করে দিতে পারে। হিজবুল্লাহর সাথে উত্তেজনার দোহাই দিয়ে ইসরায়েল যে সামরিক তৎপরতা শুরু করেছে, তা লেবাননের সার্বভৌমত্বের ওপর চরম আঘাত হিসেবে দেখছে বৈরুত। আলজাজিরা ও রয়টার্স জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকায় ওই অঞ্চলে এক বড় ধরনের মানবিক সংকটের পদধ্বনি শোনা যাচ্ছে।
এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে জাতিসংঘসহ প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলোর মধ্যস্থতা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অন্যথায়, এই আঞ্চলিক উত্তেজনা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

