প্রধান খবর

১০ এপ্রিলের পর কার্যকারিতা হারাতে পারে ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ

 

আগামী ১০ এপ্রিলের মধ্যে বিল আকারে সংসদে উত্থাপিত না হলে কার্যকারিতা হারাতে যাচ্ছে গণভোট, গুম প্রতিরোধ, মানবাধিকার কমিশন এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগসহ অন্তত ২০টি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় রাষ্ট্রীয় সংস্কারের লক্ষ্যে জারি করা এসব অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন রাজনৈতিক ও আইনি মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে গুম প্রতিরোধ ও দুদকের ক্ষমতা বৃদ্ধির মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো অনিশ্চয়তার মুখে পড়ায় গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

স্বৈরতন্ত্রের পথ রুদ্ধ করা এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের ভারসাম্য বজায় রাখতে অন্তর্বর্তী সরকার মোট ১৩৩টি অধ্যাদেশ জারি করেছিল। তবে সম্প্রতি জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এর মধ্য থেকে সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ এবং স্বতন্ত্র সচিবালয় প্রতিষ্ঠাসহ ৪টি অধ্যাদেশ বাতিলের সুপারিশ করেছে। এছাড়া গণভোট ও দুদকের ক্ষমতা সংক্রান্ত অধ্যাদেশসহ আরও ১৬টি অধ্যাদেশ এই মুহূর্তে বিল আকারে উত্থাপন না করার পক্ষে মত দিয়েছে কমিটি। সব মিলিয়ে এই ২০টি অধ্যাদেশের ভবিষ্যৎ এখন খাদের কিনারে।

অধ্যাদেশগুলো বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন প্রখ্যাত রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। তিনি একে একটি ‘সিরিয়াস কনস্টিটিউশনাল ক্রাইসিস’ বা গুরুতর সাংবিধানিক সংকট হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, গুরুত্বপূর্ণ এসব অধ্যাদেশ কার্যকর না হলে দেশে নতুন করে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে, একটি কৃত্রিম সংকট তৈরি করে জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা ধূলিসাৎ করার অপচেষ্টা হতে পারে, যা দেশকে পুনরায় ফ্যাসিজমের দিকে ঠেলে দেওয়ার ঝুঁকি তৈরি করবে।

অন্যদিকে, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ড. শাহদীন মালিক কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। তিনি মনে করেন, অধ্যাদেশের মাধ্যমে আইন প্রণয়নের প্রবণতা বাড়লে সংসদের গুরুত্ব কমে যায়। সংসদ বিহীন গণতন্ত্রের চর্চাকে তিনি বাঙালি রাজনৈতিক সংস্কৃতির এক নতুন অভিজ্ঞতা হিসেবে দেখছেন। তার মতে, আইনের স্থায়িত্বের জন্য সংসদীয় প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আসাটাই শ্রেয়।

সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০টি অধ্যাদেশ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও বাকি ১১৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। এর মধ্যে ৯৮টি অধ্যাদেশ কোনো পরিবর্তন ছাড়াই হুবহু বিল আকারে এবং বাকি ১৫টি সংশোধিত আকারে পেশ করার সুপারিশ করেছে সংসদীয় বিশেষ কমিটি। তবে মানবাধিকার ও বিচার বিভাগ সংশ্লিষ্ট অধ্যাদেশগুলো স্থগিতের সিদ্ধান্তে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) সহ বিভিন্ন নাগরিক সংগঠন ইতোমধ্যে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *