প্রধান খবর

গ্রিন কার্ড বাতিল করে যুক্তরাষ্ট্রে কাসেম সোলেমানির স্বজনদের গ্রেপ্তার

ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) প্রয়াত শীর্ষ নেতা মেজর জেনারেল কাসেম সোলেমানির ভাতিজি হামিদেহ সোলেমানি আফসার এবং তার মেয়েকে আটক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল পুলিশ। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও তাদের স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি বা গ্রিন কার্ড বাতিল করার পর শুক্রবার এই অভিযান চালানো হয়। শনিবার মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এক বিবৃতিতে নিশ্চিত করেছে যে, বর্তমানে তারা ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) হেফাজতে রয়েছেন।

পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, হামিদেহ সোলেমানি লস অ্যাঞ্জেলেসে অত্যন্ত ‘বিলাসবহুল জীবনযাপন’ করছিলেন, যার প্রমাণ তার সাম্প্রতিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যকলাপে ফুটে উঠেছে। বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, তিনি যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেও ইরানি শাসকগোষ্ঠীর পক্ষে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় হামলার প্রশংসা করেছেন। এছাড়া তিনি আমেরিকাকে ‘মহা শয়তান’ আখ্যা দিয়ে আইআরজিসির মতো ঘোষিত সন্ত্রাসী সংগঠনের প্রতি অটল সমর্থন ব্যক্ত করেছেন বলে দাবি করেছে ওয়াশিংটন।

হামিদেহ ও তার মেয়ের গ্রিন কার্ড বাতিলের পাশাপাশি তার স্বামীর ওপরও যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তবে এই আটকের ঘটনায় ভিন্ন দাবি করেছে তেহরান। কাসেম সোলেমানির মেয়ে নারজেস সোলেমানি ইরানের সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, তাদের পরিবারের কেউ কখনও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেননি। এমনকি তার বাবার কোনো ভাতিজি নেই, কেবল দুজন ভাতিজা ছিল বলেও তিনি দাবি করেন।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ‘আমেরিকা-বিরোধী’ এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘হুমকিস্বরূপ’ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। এর আগে গত ১৭ মার্চ বিমান হামলায় নিহত ইরানি নেতা আলী লারিজানির মেয়ে ও জামাতার গ্রিন কার্ডও বাতিল করা হয়। মার্কিন প্রশাসন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, যারা আমেরিকার নিরাপত্তার জন্য হুমকি, তাদের এই দেশে বসবাসের কোনো অধিকার নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *