কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়ায় অবস্থিত বিখ্যাত সাধক ফকির লালন শাহের মাজার প্রাঙ্গণে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এক হামলার শিকার হয়েছেন। রোববার (৪ অক্টোবর) সন্ধ্যায় আকস্মিকভাবে এ অপ্রীতিকর ঘটনার সূচনা ঘটে। ঝিনাইদহ ও হবিগঞ্জে হামলার পর এটি তার ওপর সংঘটিত পরবর্তী হামলার ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত করা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্র ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, লালন শাহের মাজার এলাকা সফরকালে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ও তার সঙ্গীদের লক্ষ্য করে একদল লোক তাড়া করে। প্রকাশিত একাধিক ভিডিওচিত্রে ‘ধর, ধর’ বলে তাদের ওপর চড়াও হতে এবং ধাওয়া করতে দেখা গেছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের অভিযোগ, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। দলের যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেয়া এক বার্তায় ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং এ হামলার পেছনে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতার দাবি করেছেন।
এর আগেও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী একাধিকবার একই ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। বিগত ২২ মে জুমার নামাজের পর ঝিনাইদহ পৌর কালেক্টরেট জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে তিনি এবং তার রাজনৈতিক সহযোগীরা প্রথম হামলার মুখোমুখি হন। পরবর্তীতে ২৮ জুলাই সন্ধ্যার দিকে হবিগঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা স্টাফ কোয়ার্টার, সোনালী ব্যাংক এবং সার্কিট হাউস সংলগ্ন স্থানে আবারও তার ওপর আক্রমণ চালানো হয়। একের পর এক এসব হামলার ঘটনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে।
কুষ্টিয়ার সাম্প্রতিক ঘটনাকে কেন্দ্র করে এনসিপির নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়েছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। লালন শাহের মাজারের মতো একটি সর্বজনীন ও শান্তিপ্রিয় সাংস্কৃতিক স্থানে এ ধরনের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হওয়ায় সাধারণ দর্শনার্থীদের মধ্যেও আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন দলের সমর্থক ও সচেতন নাগরিকেরা।

