“রাষ্ট্রের বিশৃঙ্খলা ও অব্যবস্থাপনা আর চলতে পারে না। এভাবে রাষ্ট্র চালানো অসম্ভব এবং এমন পরিস্থিতিতে কোনো সরকারই টিকে থাকতে পারে না।”-আদালত চত্বরে সংবাদকর্মীদের উদ্দেশ্যে এমন ক্ষোভ ও উষ্মা প্রকাশ করেন সাবেক সংসদ সদস্য ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান।
আজ শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে কঠোর প্রশাসনিক নিরাপত্তায় প্রিজনভ্যানে করে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে হাজির করা হয়। প্রিজনভ্যানের গ্রিলের ফাঁক দিয়ে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে তিনি বলেন, “নির্যাতন চালিয়ে আমাদের ন্যায়ের আন্দোলন দমানো যাবে না। দেশের সাধারণ মানুষ ও প্রবাসীদের অধিকার আদায়ে আমাদের এই সংগ্রাম আজীবন অব্যাহত থাকবে।”
আদালত প্রাঙ্গণে পুলিশ সদস্যরা তাকে হাতকড়া ও প্রতিরক্ষামূলক হেলমেট পরানোর চেষ্টা করলে তিনি তীব্র আপত্তি জানান। প্রিজনভ্যান থেকে নামানোর পরই তিনি মাথা থেকে হেলমেট খুলে ছুঁড়ে ফেলে দিয়ে উচ্চকণ্ঠে বলেন, “আমি কেন হেলমেট পরব? কোনো সরকারের অন্যায্য আদেশ আমি মানব না।” এরপর হেলমেট ছাড়াই দৃঢ় পদক্ষেপে এজলাসের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় তাকে বিভিন্ন রাষ্ট্রভিত্তিক ও পরিবর্তনকামী স্লোগান দিতে দেখা যায়।
এদিকে, শুনানি চলাকালীন আদালত কক্ষে সাধারণ সংবাদকর্মীদের প্রবেশের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করে প্রসিকিউশন বিভাগ। দীর্ঘ এক ঘণ্টাব্যাপী আইনি তর্ক-বিতর্ক শেষে আদালত তার বিরুদ্ধে এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। রিমান্ড শুনানি শেষে এজলাস থেকে নামানোর সময় আখতারুজ্জামান আবারো গর্জে উঠে বলেন, “আমাকে জোরপূর্বক হাতকড়া ও হেলমেট পরানো হয়েছিল। দেশের অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমার এই প্রতিবাদ চলবেই, যত বছরের জেলই দেওয়া হোক।”
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রবাসীদের ভোগান্তি ও অব্যবস্থাপনা নিয়ে বিমানবন্দরের দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তার সঙ্গে এক বাকবিতণ্ডায় জড়ান তিনি। ওই ঘটনার জের ধরে সরকারি কাজে বাধা প্রদান এবং প্রশাসনিক কর্তাব্যক্তিদের হেনস্তা করার অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়। পরে গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) রাজধানীর ক্যান্টনমেন্ট এলাকার নিজ বাসভবন থেকে তাকে গ্রেফতার করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

