এশিয়ান গেমসে ব্যাটে-বলে দলের চরম ব্যর্থতার পর সংবাদ সম্মেলনে এসে মেজাজ হারালেন বাংলাদেশ অধিনায়ক লিটন দাস। শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে বাজে হারের পর একের পর এক তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে পড়েন তিনি। অধিনায়কত্ব থেকে পদত্যাগ করবেন কি না-সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছুটা খোঁচা মেরেই লিটন বলে ওঠেন, “আচ্ছা, এশিয়ান গেমস থেকে পদত্যাগ করলাম! দয়া করে পরের প্রশ্ন।”
এশিয়ান গেমসে বাংলাদেশকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার দায়িত্ব ছিল লিটন দাসের ওপর। কিন্তু ব্যাট হাতে তিনি পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছেন; দুই ইনিংসে তাঁর সংগ্রহ মাত্র ২ ও ০ রান। দলের এই বাজে পারফরম্যান্স এবং পদকহীন বিদায়ের কারণে স্বাভাবিকভাবেই অধিনায়কের ওপর চাপ বেড়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে পদত্যাগের প্রসঙ্গ উঠলে লিটন প্রথমে স্বাভাবিকভাবেই উত্তর দেন। তিনি বলেন, “না, রিজাইন করতে চাই না। ক্রিকেটে উত্থান-পতন থাকেই, একদিন ভালো হবে তো একদিন খারাপ। এখানে পদত্যাগ করার মতো কিছু হয়নি।” তবে সাংবাদিকরা তাঁর জবাবে সন্তুষ্ট না হয়ে আবারও একই বিষয়ে প্রশ্ন করলে কিছুটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন তিনি।
শ্রীলঙ্কার কাছে ৬৩ রানের বড় ব্যবধানে হার নিয়ে অধিনায়ক প্রতিপক্ষের ইনিংসের প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, “আমরা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারিনি। প্রথম আট ওভার বোলাররা খুব ভালো বল করেছিল, কিন্তু এরপর লঙ্কান এক ব্যাটার অসাধারণ এক ইনিংস খেলে আমাদের ম্যাচের বাইরে ঠেলে দেয়। ওই উইকেটে যেভাবে সে খেলেছে, আমাদের বোলারদের কামব্যাক করার মতো কোনো উপায় ছিল না। আর আমরা যখন রান তাড়ায় ব্যাটে নামি, তখন কোনোভাবেই সেটি কাভার আপ করতে পারিনি।”
উল্লেখ্য, এশিয়ান গেমসের বিগত তিন আসরে বাংলাদেশ কোনো না কোনো পদক জিতলেও এবার শূন্য হাতেই ফিরতে হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে আক্ষেপ প্রকাশ করে লিটন বলেন, “গোল্ড বা ফাইনালের টার্গেট নিয়ে এসেছিলাম, তা না পেয়ে অন্তত ব্রোঞ্জ জেতার একটা অপশন ছিল। কিন্তু সেই সুযোগটাও আমরা মিস করেছি, যা সত্যি হতাশাজনক।”
এদিকে, দলের কয়েকজন ক্রিকেটারের শৃঙ্খলাভঙ্গ এবং ম্যানেজমেন্টকে না জানিয়ে বাইরে ঘোরাঘুরি করা নিয়ে বিতর্ক উঠলে সতীর্থদের পাশেই দাঁড়ান অধিনায়ক। গেমসের খাবার ও আনুষঙ্গিক সুবিধার অপর্যাপ্ততার কথা তুলে ধরে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “একজন খেলোয়াড় কি সারাদিন রুমের ভেতর বন্দি থাকবে? এখানকার খাবারে অরুচি হলে তাকে তো বাইরে যেতেই হবে। আর অনুশীলনের ভালো সুযোগ থাকলে খেলোয়াড়দের বাইরে যাওয়ারও প্রয়োজন হতো না।”

