পার্বত্য জেলা বান্দরবানে নির্মম ও নৃশংস এক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। নিখোঁজের মাত্র কয়েক ঘণ্টার মাথায় ট্রাঙ্কের ভেতরের একটি কাঠের বাক্সের ভেতর থেকে তিন বছরের শিশু তায়িফা সুলতানার নিথর দেহ উদ্ধার করেছে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ঘাতক ফুফু নার্গিস সুলতানাকে (৪৯) তাৎক্ষণিকভাবে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
সোমবার জেলা সদর উপজেলার সুয়ালক ইউনিয়নের সুয়ালক বাজারসংলগ্ন ময়দার মিল এলাকায় এই লোমহর্ষক ঘটনাটি ঘটে। নিহত শিশু তায়িফা সুলতানা উক্ত এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা ইলিয়াস খানের ছোট মেয়ে।
স্বজন ও পুলিশ সূত্র জানায়, সোমবার সকাল থেকেই ফুটফুটে শিশু তায়িফাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা চারদিকে সম্ভাব্য সব জায়গায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও শিশুটির কোনো সন্ধান পাননি। কোনো উপায় না পেয়ে শেষ পর্যন্ত বাবা ইলিয়াস খান থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করতে যান।
নিখোঁজের তথ্য পাওয়ার পরপরই তদন্তে নামে পুলিশ। নিখোঁজ রহস্য উদঘাটনে ইলিয়াস খানের বসতবাড়িতে বসানো সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয়। ফুটেজে দেখা যায়, ফুফু নার্গিস সুলতানা শিশু তায়িফাকে ফুঁসলিয়ে নিজের ঘরে নিয়ে যাচ্ছেন। এরপরেই সন্দেহভাজন হিসেবে নার্গিসের কক্ষে তল্লাশি চালানো হয় এবং বাক্সের ভেতর থেকে তায়িফার অচেত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাষণ্ড ফুফু নার্গিস সুলতানা নিজের আপন ভাতিজিকে গলা টিপে হত্যা করার কথা স্বীকার করেছেন। তবে কী কারণে এই নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো মুখ খোলেননি তিনি। স্বজনদের থেকে জানা গেছে, স্বামীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পর থেকে নার্গিস ভাইয়ের পরিবারেই বসবাস করতেন। ভাইয়ের স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব ও পারিবারিক কলহের জের ধরে এমন মর্মান্তিক ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বান্দরবান সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জানান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার ভিত্তিতেই অপরাধীকে চিহ্নিত করে মরদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য দেহটি সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্তের বিরুদ্ধে নিয়মিত হত্যা মামলা দায়েরপূর্বক গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে এবং হত্যার মূল রহস্য উন্মোচনে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

