প্রধান খবর

অপ্রতিমের মা-বাবাকে বিভিন্ন নম্বর থেকে কল দিয়ে চরম হয়রানি

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) শিক্ষকের একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার পর এবার তার শোকসন্তপ্ত মা-বাবাকে নানা নম্বর থেকে ফোন করে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ, সাইবার বুলিং ও অকথ্য হয়রানির অভিযোগ উঠেছে। সেই সাথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে অপ্রতিম ও তার পরিবারকে জড়িয়ে ভিত্তিহীন কুৎসা ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে বলে পরিবার সূত্রে জানা গেছে।

অনাকাঙ্ক্ষিত এই হয়রানি ও প্রাণনাশের আশঙ্কায় গভীর নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন নিহতের স্বজনেরা। নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে অপ্রতিমের মা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগম বাধ্য হয়ে নিজের সচল মুঠোফোন নম্বরটি বন্ধ করে রেখেছেন।

সার্বিক উদ্ভূত পরিস্থিতে নিজের এবং পরিবারের সুরক্ষার স্বার্থে শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) অপ্রতিমের বাবা ব্যবসায়ী কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেছেন।

থানায় জিডি ও পারিবারিক সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর রাতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তি গ্রামীণফোনের একটি সংযোগ থেকে কে এম ফিরোজ শাহরিয়ারকে ফোন করে পরিচয় নিশ্চিত করার পরেই অকথ্য ভাষায় গালাগাল শুরু করে।

বাধ্য হয়ে তিনি সেই সংযোগটি ব্লক করে দিলে পরবর্তীতে এয়ারটেল নেটওয়ার্কের আরেকটি নম্বর থেকে বারবার কল দিয়ে একইভাবে কুৎসিত আচরণ করা হতে থাকে। অনুসন্ধানকালে সংবাদকর্মীরা সন্দেহভাজন মোবাইল নম্বরগুলোতে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়; তবে পরিচয় শনাক্তকারী অ্যাপস ‘ট্রু কলার’-এ সার্চ দিয়ে নম্বর দুটি রাসেল স্টোর ও মোহাম্মদ আলী নামে সংরক্ষিত অবস্থায় দেখা যায়।

অপ্রতিমের বাবা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি জানান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুয়া আইডি খুলে নিহত অপ্রতিম এবং তাদের অভিভাবকত্ব নিয়ে নানা ধরনের নোংরা অপপ্রচার ও কুৎসা রটানো হচ্ছে। অনবরত মানসিক নির্যাতন এবং অপরিচিত ফোন কলের মাধ্যমে অসংলগ্ন আচরণের কারণে পুরো পরিবার এখন চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতার মধ্য দিয়ে দিন কাটাচ্ছে।

সদর দক্ষিণ মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) এবং অপ্রতিম হত্যা মামলার নবনিযুক্ত তদন্ত কর্মকর্তা রাজিব আহমেদ জানান, সাইবার বুলিং এবং অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল দিয়ে পরিবারটিকে অসভ্য ভাষায় গালাগাল ও হয়রানির অভিযোগে অপ্রতিমের বাবা থানায় জিডি দায়ের করেছেন। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করে সাইবার অপরাধীদের শনাক্তে অপরাধ তদন্ত ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেন তিনি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *