জীবিকার তাগিদে দেশ ছেড়ে লিবিয়ায় গিয়ে মারা যাওয়ার দীর্ঘ আট মাস পর দেশে ফিরেছে তরিকুল ইসলাম (২৫) নামের এক বাংলাদেশি যুবকের কফিনবন্দী মরদেহ। প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতার দীর্ঘ অনিশ্চয়তা শেষে শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে তার মরদেহ জয়পুরহাটের ক্ষেতলাল উপজেলার গুরুড়া গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছালে এক শোকাচ্ছন্ন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
নিহত তরিকুল ইসলাম ক্ষেতলাল উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের গুরুড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামাণিকের ছেলে। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করতে ও উপার্জনের আশায় প্রায় সাত বছর আগে তিনি লিবিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লিবিয়ায় অবস্থানকালে চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি মারাত্মক অসুস্থতাজনিত কারণে তরিকুল শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার মৃত্যুর খবর দেশে স্বজনদের কাছে পৌঁছালেও মরদেহ ফেরত আনা নিয়ে তৈরি হয় চরম জটিলতা। প্রবাসী কর্মীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার দাপ্তরিক প্রক্রিয়া শুরু করা হলেও নানা আইনি ও প্রশাসনিক প্রতিবন্ধকতায় আটটি মাস পার হয়ে যায়। তরিকুলের স্বজনেরাও একপর্যায়ে মরদেহ আদৌ দেশে আনা সম্ভব হবে কি না তা নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তায় ছিলেন।
অবশেষে সকল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে শনিবার দুপুরে বিমানযোগে তরিকুলের কফিন বাংলাদেশে এসে পৌঁছায়। এরপর বিকেল ৪টার দিকে মরদেহটি তার গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হলে প্রিয়জনকে হারিয়ে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
পরবর্তীতে শনিবার বিকেল ৫টার দিকে স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় স্থানীয় গণমান্য ব্যক্তিবর্গ, স্বজন ও প্রতিবেশীরা অংশ নেন। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তার দাফন সম্পন্ন করা হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আলমপুর ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এস এম রাজিব হোসেন জানান, তরিকুল তার ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে লিবিয়ায় পাড়ি জমানো তরিকুল গত জানুয়ারিতে অসুস্থ হয়ে মারা যান। সরকারি ও কূটনৈতিক নানা জটিলতার কারণে মৃত্যুর আট মাস পর শনিবার তার মরদেহ দেশে এনে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

