বন্দরনগরী চট্টগ্রামে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে গর্ভের সন্তানসহ অর্পিতা দাশ (২৬) নামের এক শিক্ষক না ফেরার দেশে পাড়ি জমিয়েছেন। অর্পিতা চট্টগ্রামের সানরাইজ গ্রামার স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা ছিলেন। আগামী মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে তার প্রথম সন্তান পৃথিবীর আলো দেখার কথা ছিল, কিন্তু ডেঙ্গুর থাবায় সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল।
গত শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (চমেক) নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
হাসপাতাল ও পরিবারের সূত্রে জানা যায়, গত ৬ সেপ্টেম্বর অর্পিতা দাশের শরীরে ডেঙ্গু ভাইরাস শনাক্ত হয়। পরদিন শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রথমে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আরেকটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের পর গত বৃহস্পতিবার আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এনে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের যাবতীয় প্রচেষ্টা সত্ত্বেও শুক্রবার বিকেলে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, অর্পিতা দাশ ‘ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে’ আক্রান্ত ছিলেন। হাসপাতালে নিয়ে আসার সময় থেকেই তার শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত সংকটাপন্ন ছিল। গর্ভবতী এই নারীর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে তার গর্ভে থাকা সন্তানটিও মারা যায়।
চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ সাজেদুর রহমান জানান, চমেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক প্রসূতি নারীর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। হাসপাতাল থেকে অফিসিয়াল ডেথ রিভিউ প্রতিবেদন পাওয়ার পর বিষয়টি স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রান্ত নিয়মিত তালিকায় যুক্ত করা হবে।

