নৌ-ভ্রমণে গিয়ে পদ্মা নদীর হার্ডিঞ্জ ব্রিজের পিলারের সঙ্গে বাল্কহেডের ধাক্কায় নদীতে ছিটকে পড়ে নিখোঁজের দুই দিন পর ছাত্রদল নেতা রাকিবুজ্জামান রকির (৩৫) ভাসমান মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। আজ রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বেলা পৌনে ১১টার দিকে পাবনার ঈশ্বরদী উপজেলার দাদাপুর এলাকা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত রাকিবুজ্জামান রকি ঝিনাইদহের শৈলকুপা পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্বরত ছিলেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম।
পুলিশ ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ঝিনাইদহের শৈলকুপা থেকে প্রায় ১২০ জনের একটি বড় দল বাল্কহেডে চড়ে পদ্মা নদীতে আনন্দ ও নৌ-ভ্রমণে বের হন। ভ্রমণ শেষে তারা ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর এলাকা ঘুরে রাতে নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন। রাত আনুমানিক ৮টার দিকে বাল্কহেডটি ঐতিহাসিক হার্ডিঞ্জ ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পদ্মা নদীর তীব্র প্রাবল্য ও স্রোতের কারণে চালক নিয়ন্ত্রণ হারায়। একপর্যায়ে নিয়ন্ত্রণহীন বাল্কহেডটি সেতুর ৪ নম্বর পিলারের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এ সময় প্রচণ্ড ঝাঁকুনিতে বাল্কহেডের ওপরে থাকা তিনজন যাত্রী সরাসরি পদ্মা নদীতে ছিটকে পড়েন।
দুর্ঘটনার তাৎক্ষণিক খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস ও উদ্ধারকারী দল দ্রুত অভিযান শুরু করে নদী থেকে লিটন ও ওহাব নামের দুই যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হলেও রকি পানির তোড়ে নিখোঁজ হন। দুর্ঘটনাগ্রস্ত বাল্কহেডটি পরে পদ্মা নদীর বাহিরচর অংশের পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় গিয়ে অবস্থান নেয়।
উদ্ধার অভিযানের বিষয়ে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার শফিকুল ইসলাম জানান, নিখোঁজের পর থেকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও স্থানীয়রা পদ্মা নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে টানা অনুসন্ধান অভিযান অব্যাহত রাখেন। নিখোঁজের দুই দিন পর আজ রোববার বেলা পৌনে ১১টার দিকে ঈশ্বরদীর দাদাপুর এলাকায় নদীতে মরদেহ ভেসে উঠলে উদ্ধারকারীরা রকির লাশ উদ্ধার করেন। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হচ্ছে।

