নড়াইল সদর উপজেলার একটি হাফেজিয়া মাদরাসায় একাধিক শিশু শিক্ষার্থীকে দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত এই শিক্ষক ভয়ভীতি দেখিয়ে দিনের পর দিন অন্তত পাঁচজন আবাসিক শিক্ষার্থীকে বলাৎকার করে আসছিলেন বলে জানা গেছে। এই ঘটনায় ক্ষুব্ধ অভিভাবকদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে পুলিশ অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমানকে (২৫) গাজীপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে। গ্রেপ্তারকৃত মাহবুবুর নড়াইল সদর উপজেলার মাইজপাড়া ইউনিয়নের বলরামপুর গ্রামের বাসিন্দা।
মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ২৭ আগস্ট রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে তাফসির উদ্দিন হাফেজিয়া মাদরাসার এক আবাসিক শিশু শিক্ষার্থীকে জোরপূর্বক বলাৎকার করেন অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান। পরদিন ২৮ আগস্ট ভুক্তভোগী শিশুটি পুরো ঘটনা তার মাকে খুলে বলে। পরবর্তীতে অভিভাবকরা মাদরাসায় গিয়ে ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানালে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে জানাজানি হয়ে যায়। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে অভিযুক্ত শিক্ষক মাহবুবুর রহমান কৌশলে মাদরাসা থেকে পালিয়ে আত্মগোপন করেন।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগী শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে নড়াইল সদর থানায় বিষয়টি জানানো হলে পুলিশ ঘটনা তদন্তে নামে। তদন্ত চলাকালে একের পর এক ভয়াবহ ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসতে শুরু করে। প্রাথমিক তদন্তেই পুলিশ জানতে পারে, কেবল একজন নয়-ওই মাদরাসার আরও অন্তত পাঁচজন শিশু শিক্ষার্থী ওই শিক্ষকের লোলুপ দৃষ্টি ও শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছে। শিক্ষকতার আড়ালে তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভয়ভীতি দেখিয়ে শিশুদের জিম্মি করে এই অপকর্ম চালিয়ে আসছিলেন।
ঘটনার ভয়াবহতায় এলাকায় চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। এরপর ভুক্তভোগী এক শিশুর মা বাদী হয়ে নড়াইল সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে নড়াইল সদর থানার ওসির (তদন্ত) নেতৃত্বে একটি বিশেষ পুলিশ টিম অভিযানে নামে। আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় ও নজিরবিহীন তৎপরতায় মাত্র ১০ ঘণ্টার ব্যবধানে গাজীপুরের গাছা থানা এলাকা থেকে আসামি মাহবুবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা মিল নিশ্চিত হওয়ার পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। আসামিকে আদালতে সোপর্দ করার প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। ঘটনার পূর্ণাঙ্গ ও নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছে পুলিশ প্রশাসন।

