কাতারের ভূখণ্ডে হামলা চালানোর কথা চরম দম্ভ ও গর্বের সঙ্গে প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। একই সঙ্গে তিনি দাবি করেছেন, গাজায় কাতারের পক্ষ থেকে পাঠানো কোটি কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা ইসরায়েল সরকারের অনুমোদনেই প্রবেশ করেছিল এবং সেই অর্থ কেবল মানবিক কাজেই ব্যবহৃত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নানা চড়াই-উতরাইয়ের মাঝে নেতানিয়াহুর এমন লাগামহীন বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনীতিতে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।
সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমে দেওয়া এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু কাতারকে সরাসরি ইসরায়েলের জন্য একটি ‘শত্রুভাবাপন্ন দেশ’ হিসেবে অভিহিত করেন। চলমান গাজা যুদ্ধ পরিস্থিতিতে কাতার কখনোই ইসরায়েলের সামরিক বা কৌশলগত নীতিতে কোনো ধরনের প্রভাব ফেলতে পারেনি বলে দাবি করেন তিনি। দোহায় চালানো সামরিক অভিযানের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে তিনি নিজেই কাতারে হামলা চালানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন এবং সেখানে বোমা ফেলা হয়েছিল।
উল্লেখ্য, আগামী ৯ সেপ্টেম্বর কাতারের রাজধানী দোহায় ইসরায়েলি বিমান হামলার এক বছর পূর্ণ হতে যাচ্ছে। ২০২৫ সালের ওই ভয়াবহ হামলায় ফিলিস্তিনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের পাঁচজন সদস্য এবং কাতারের এক নিরাপত্তাকর্মী প্রাণ হারান। মূলত যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় প্রস্তাবিত গাজা যুদ্ধবিরতি নিয়ে হামাস নেতাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক চলাকালে এই হামলা চালানো হয়। তৎকালীন সময়ে এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বিক রীতিনীতির স্পষ্ট লঙ্ঘন বলে তীব্র ধিক্কার জানায় কাতার। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর এই নগ্ন আক্রমণকে গুরুতর অপরাধ বলে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন।
অন্যদিকে গাজায় কাতারের অর্থায়নের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করতে গিয়ে নেতানিয়াহু জানান, ইসরায়েলের গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিন বেতের প্রত্যক্ষ সুপারিশেই গাজার সাধারণ মানুষের মানবিক সহায়তার জন্য ওই অর্থ অনুমোদিত হয়। গাজায় আসা মোট বরাদ্দের মাত্র ২ শতাংশ ছিল কাতারের। তবে নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক বিরোধীদের অভিযোগ, এই অর্থের একটি বড় অংশ ব্যবহার করে হামাস তাদের সামরিক সক্ষমতা বাড়ায় এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রস্তুতি নেয়। কাতার অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়ে আসছে, তাদের সকল সাহায্য ছিল স্বচ্ছ এবং আন্তর্জাতিক নজরদারির অধীন।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনেই ইসরায়েলের সাধারণ নির্বাচন। নির্বাচনে গাজা যুদ্ধ, অর্থনৈতিক মন্দা ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা প্রধান ইস্যু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক কৌশল হিসেবেই কট্টর জাতীয়তাবাদী ভোটারদের সমর্থন টানতে নেতানিয়াহু আঞ্চলিক উত্তেজনা উসকে দেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছেন।

