বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হয়নি, ঘরের দেয়ালে বসানো হয়নি মিটারও-অথচ প্রতি মাসে যেভাবে প্রথাগত বিল আসে, ঠিক সেভাবেই গ্রাহকের হাতে পৌঁছে গেছে বিদ্যুৎ বিলের কাগজ! জামালপুরের মাদারগঞ্জে ঘটে যাওয়া এমন এক অদ্ভুত ও ভূতুড়ে ঘটনায় চরম ক্ষোভ ও বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহক শ্রী নিমাই চন্দ্র সরকার। মিটার স্থাপন কিংবা বিদ্যুৎ ব্যবহার শুরুর আগেই বিল তৈরির এই ঘটনায় স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির বিলিং ব্যবস্থাপনা, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দায়সারা মনোভাব ও স্বচ্ছতা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনাটি ঘটেছে জামালপুর জেলার মাদারগঞ্জ উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায়। ভুক্তভোগী নিমাই চন্দ্র সরকার জানান, তাঁর বাসায় বর্তমানে চারটি মিটার চালু রয়েছে। সম্প্রতি আরও একটি নতুন মিটার সংযোগের জন্য তিনি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে নিয়ম মেনে আবেদন করেন। আবেদনের পর নতুন মিটার স্থাপনের সুবিধার্থে ওয়্যারিং বোর্ডও তৈরি করে রাখেন তিনি। তবে বিদ্যুৎ বিভাগের পক্ষ থেকে কোনো মিটার কিংবা সংযোগ প্রদান করা না হলেও আগস্ট মাসের বিল হিসেবে তাঁর নামে ৬৯২ টাকার একটি কাগজ পাঠানো হয়।
সরেজমিনে তদন্তে গিয়ে দেখা যায়, বাসায় চারটি মিটার সচল থাকা সত্ত্বেও নিমাই চন্দ্রের নামে মোট পাঁচটি বিলের কাগজ এসেছে। যার মধ্যে সম্পূর্ণ নতুন ও অসংযুক্ত মিটারের নামেই এসেছে ৬৯২ টাকার ভূতুরে বিল। সংযোগ ও মিটার ছাড়া কীভাবে এই বিল তৈরি হলো, তা নিয়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে পুরো এলাকায়। স্থানীয় অধিবাসীরা এই অনিয়মের কঠোর নিন্দা জানিয়ে অনতিবিলম্বে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও দায়ী কর্মীদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি তুলেছেন।
অদ্ভুদ এই কাণ্ডের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের কাছে জানতোওয়া হলে মিলেছে অস্পষ্ট ও দায়সারা বক্তব্য। স্থানীয় তেঘরিয়া অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ বিষয়টি ভুলবশত হয়েছে বলে স্বীকার করলেও মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এর কোনো সঠিক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। সহকারী জেনারেল ম্যানেজার সফটওয়্যারের ত্রুটির অজুহাত দেখালেও মাদারগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) বিষয়টিতে নিজের অজ্ঞতা প্রকাশ করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করেন। মাঠপর্যায়ে চরম সমন্বয়হীনতা ও জবাবদিহির অভাবেই গ্রাহকরা এমন হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

