প্রধান খবর

প্রতিমন্ত্রী শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানে ৭১ কোটি টাকার সরকারি কাজ

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার মাস দুয়েকের মাথায় মীর শাহে আলমের পারিবারিক প্রতিষ্ঠানের নাম জড়িয়েছে কোটি কোটি টাকার সরকারি কাজের চুক্তিতে। ২০২৬ সালের ১২ এপ্রিল বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন (বিসিক) থেকে ২৫ কোটি ৫৭ লাখ টাকার একটি চুক্তি পায় ‘রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস লিমিটেড’। শতভাগ শেয়ারের মালিক প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম ও তার ছেলে মীর শাকরুল আলম সীমান্ত হলেও, বিসিকের তৎকালীন পরিচালক ও পরবর্তী সময়ে প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা শাহে আলম এই চুক্তিতে ক্ষমতার কোনো প্রভাব বা স্বার্থের দ্বন্দ্বের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

অফিসিয়াল নথির তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত সময়ে প্রতিমন্ত্রীর পারিবারিক মালিকানাধীন রূপসী রাইস অ্যান্ড পুষ্টি মিলস এবং তার ছেলের মালিকানাধীন ‘মীর সীমান্ত ইঞ্জিনিয়ারিং’ সংস্থা দুইটি বিসিক ও এলজিআরডি মন্ত্রণালয় থেকে মোট ৭১ কোটি টাকার বেশি মূল্যের ১২টি সরকারি কাজের কার্যাদেশ লাভ করে। ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মেয়াদে শাহে আলম যখন বিসিকের পরিচালক পদে দায়িত্ব পালন করছিলেন, ঠিক সেই সময়েই তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান প্রায় ৫৭ কোটি ৫০ লাখ টাকার ছয়টি চুক্তি পায়। পরবর্তীতে তিনি এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর ওই একই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ খাত থেকে আরও ১৩ কোটি ৫০ লাখ টাকার অতিরিক্ত ছয়টি কার্যাদেশ বাগিয়ে নেয় তার ছেলের প্রতিষ্ঠান।

এ ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনি অঙ্গনে ব্যাপক আলোড়ন তৈরি হয়েছে। সংবিধানের ১৪৭(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, সরকারি লাভজনক পদে বহাল থাকা অবস্থায় মুনাফালাভের উদ্দেশ্যে কোনো প্রতিষ্ঠানের পরিচালনায় অংশ নেওয়া নিষিদ্ধ। প্রশাসনের সাবেক জ্যেষ্ঠ সচিব আলী ইমাম মজুমদার ও সাবেক সচিব আব্দুল আউয়াল মজুমদার এই ঘটনাকে স্পষ্ট ‘স্বার্থের দ্বন্দ্ব’ এবং অনৈতিক স্বজনপ্রীতি হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মাধ্যমে এই নজিরবিহীন আর্থিক অনিয়ম ও প্রভাব বিস্তারের বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

চুক্তির নথিপত্র ও রাজনৈতিক চাপের জবাবে প্রতিমন্ত্রী শাহে আলম দাবি করেন, এসব দরপত্র ও কার্যাদেশ পাওয়ার পেছনে তার ব্যক্তিগত ক্ষমতার কোনো প্রভাব ছিল না। মন্ত্রী হওয়ার পরপরই স্বার্থের দ্বন্দ্ব এড়াতে তার ছেলের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব হলফনামার মাধ্যমে অন্য এক ব্যক্তির কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। তবে সাবেক সচিব ও আইনি বিশেষজ্ঞরা প্রশ্ন তুলেছেন যে, কেবল অভ্যন্তরীণ হলফনামার মাধ্যমে রূপান্তর করলেই প্রকৃত আইনি মালিকানা পরিবর্তিত হয় কি না। সরকারি পদে থেকে নিজের মন্ত্রণালয়ের কাজের চুক্তি পাওয়ার এ ঘটনা নিয়ে সরকারের অভ্যন্তরেও সমালোচনার ঝড় উঠেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *