প্রধান খবর

টানা ভারী বর্ষণে ভাসছে পাকিস্তান : খোলা হলো রাওয়াল বাঁধের স্পিলওয়ে

টানা ও মুষলধারে ভারী বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ এবং পার্শ্ববর্তী ঐতিহ্যবাহী রাওয়ালপিন্ডি শহরের বিস্তীর্ণ নিচু এলাকা। আকস্মিক এই জলবদ্ধতায় পুরো দুই শহরের সাধারণ জনজীবন মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং যেকোনো ধরনের বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

পাকিস্তানের আবহাওয়া অধিদপ্তরের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বৃষ্টির ফলে লেহ নুল্লা খালের পানি বিপদসীমার বিপজ্জনক কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। কাটারিয়ানে খালের পানির উচ্চতা ২৯ ফুট এবং গাওয়ালমান্ডিতে ২৩ দশমিক ৫ ফুট রেকর্ড করা হয়েছে। খাল অববাহিকায় পানি বাড়তে থাকায় সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এসব এলাকার বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুরু করেছে উদ্ধারকারী দল। ‘রেসকিউ ১১২২’-এর কর্মীরা ইতোমধ্যেই রাওয়ালপিন্ডির বিভিন্ন এলাকা থেকে প্রায় ৬০ জনকে উদ্ধার করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়ে গেছেন এবং ঘরে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান জারি রেখেছেন।

আবহাওয়া অফিসের তথ্য মতে, রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাতের সাক্ষী হয়েছে অঞ্চলটি। শামসাবাদে সর্বোচ্চ ২০১ মিলিমিটার, নিউ কাটারিয়ানে ১৮৬, গোলরায় ১৫৭ এবং এইচ-৮/২ এলাকায় ১৫৫ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এছাড়া সাইদপুর, পির ওয়াধাই, কাচেরি ও বোকরায় ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছে। পরিস্থিতির আশঙ্কাজনক অবনতি হওয়ায় রাওয়াল বাঁধের পানির উচ্চতা বিপৎসীমা অতিক্রম করে। সার্বিক ঝুঁকি বিবেচনায় ড্যামের নিরাপত্তা রক্ষায় বাঁধের স্পিলওয়ে খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ। একইসঙ্গে সর্বসাধারণকে নালা ও জলপ্রবাহের এলাকা থেকে দূরে থাকার কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে দেখা গেছে, ইসলামাবাদ এক্সপ্রেসওয়েসহ প্রধান প্রধান সড়কগুলো পানির নিচে তলিয়ে গেছে। শত শত যানবাহন ও গাড়ি অর্ধেক পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে আটকা পড়ে আছে। যান চলাচল স্বাভাবিক রাখতে ট্রাফিক পুলিশের পক্ষ থেকে চালকদের ধীরগতিতে গাড়ি চালানো, ফগ লাইট ব্যবহার করা এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বের না হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি আরও কয়েক দিন স্থায়ী হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন দেশের জলবায়ুমন্ত্রী। আগামী ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশের উত্তরাঞ্চলে এই ধারা অব্যাহত থাকার পূর্বাভাস রয়েছে। সার্বিক বিপর্যয় বিবেচনায় নিয়ে রাওয়ালপিন্ডির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন এবং জরুরি প্রয়োজন ছাড়া নাগরিকদের ঘরে থাকার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *