প্রধান খবর

স্ত্রী-সন্তানের ফেলে যাওয়া প্রবাসী জামাল মারা গেছেন, চাঁদার টাকায় হলো দাফনের ব্যবস্থা

টাঙ্গাইলের সখীপুরে চরম অসহায় অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যাওয়া অসুস্থ প্রবাসী জামাল উদ্দিন (৫৫) শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন। সোমবার বিকেলে উপজেলার কালমেঘা গ্রামে ভাতিজির বাড়িতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জীবনের শেষ দিনগুলোতে নিজ পরিবার থেকে বিতাড়িত হয়ে শেষ পর্যন্ত গ্রামবাসীর তোলা চাঁদার টাকায় তার শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার ঘটনায় এলাকা জুড়ে গভীর শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামাল উদ্দিনের দুটি কিডনিই সম্পূর্ণ অকেজো হয়ে পড়েছিল। মুমূর্ষু অবস্থায় গত ১ আগস্ট গভীর রাতে স্ত্রী ও স্বজনেরা তাকে পৈতৃক ভিটার নিকটবর্তী নির্জন রাস্তায় ফেলে চলে যান। পরদিন সকালে বৃষ্টিতে ভিজতে দেখে ভাতিজি ইসমত আরা তাকে উদ্ধার করে নিজের বাড়িতে আশ্রয় দেন। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হলে গত ৪ আগস্ট স্থানীয়দের সংগৃহীত অর্থে তাকে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। সেখানে শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি না হওয়ায় গত শুক্রবার তাকে পুনরায় ভাতিজির বাড়িতে নিয়ে আসা হয়।

স্বজনদের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রায় ২২ বছর আগে পৈতৃক সম্পত্তি বিক্রি করে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলায় স্ত্রীর সাথে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছিলেন জামাল। দীর্ঘ ১২ বছর সৌদি আরবে প্রবাস জীবনে উপার্জিত সব অর্থ তিনি স্ত্রীর কাছেই পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে দেশে ফেরার পর পরিবার তার দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করে। জামাল উদ্দিনের স্ত্রীর দাবি, তিনি আগেই তাকে আইনগতভাবে তালাক দিয়েছিলেন। জীবনের শেষ সম্বল হারিয়ে চরম অবহেলার শিকার এই প্রবাসী অবশেষে মৃত্যুর কাছে হার মানলেন।

বহুরিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরে আলম জানান, প্রবাসের উপার্জিত সব অর্থ স্বজনদের হাতে তুলে দিয়ে শেষ বয়সে এসে চরম নির্মমতার শিকার হতে হয়েছে এই মানুষকে। অসুস্থ অবস্থায় গ্রামবাসী চাঁদা তুলে তার চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছিল। মৃত্যুর পরও স্থানীয়রাই উদ্যোগ নিয়ে চাঁদার টাকায় তার দাফন-কাফনের সার্বিক ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছেন। একজন প্রবাসীর এমন করুণ পরিণতি সমাজের মানবিক মূল্যবোধের চরম অবক্ষয়কে নতুন করে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *