চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আজ আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হচ্ছে। লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার দীর্ঘ ৮২ দিন পর প্রায় সাড়ে ১৮ লাখ শিক্ষার্থী তাদের বহুল প্রতীক্ষিত ফলাফল পেতে যাচ্ছে। করোনাভাইরাস মহামারির বিশেষ পরিস্থিতি বাদ দিলে, গত ২০ বছরের মধ্যে এবারই প্রথম এসএসসি ও সমমানের ফল প্রকাশে সর্বোচ্চ বিলম্ব হলো।
সাধারণত পাবলিক পরীক্ষার ফলাফল লিখিত পরীক্ষা শেষ হওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে প্রকাশ করার দীর্ঘদিনের একটি রীতি রয়েছে। ২০০৭ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় সব বছরেই এই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা হয়েছিল। তবে চলতি বছর ২১ এপ্রিল শুরু হওয়া লিখিত পরীক্ষা ২০ মে শেষ হলেও নির্ধারিত ৬০ দিনের মধ্যে ফল প্রকাশ সম্ভব হয়নি। শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন পূর্বে ২০ জুলাইয়ের মধ্যে ফল প্রকাশের আশ্বাস দিলেও পরবর্তীতে নতুন তারিখ হিসেবে ১০ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়।
শিক্ষাবোর্ড সূত্র জানিয়েছে, ফল তৈরিতে এই রেকর্ড বিলম্বের প্রধান কারণ ছিল টানা অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রভাবে সৃষ্ট প্রতিকূল পরিস্থিতি। এছাড়া অভ্যন্তরীণ সূত্রের মতে, পরীক্ষার ফলাফল নিখুঁতভাবে প্রস্তুত ও পুনরায় কয়েক দফায় পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই করার কারণেই মূলত অতিরিক্ত সময় লেগেছে। শিক্ষা প্রশাসন সূত্র ফল বিপর্যয়ের সব ধরণের আশঙ্কা ও গুঞ্জন নাকচ করে দিয়ে শিক্ষার্থীদের আশ্বস্ত করেছে।
এদিকে ফল প্রকাশে এই অস্বাভাবিক বিলম্বের প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়তে যাচ্ছে একাদশ শ্রেণির পুরো শিক্ষাবর্ষ ও ভর্তি প্রক্রিয়ার ওপর। নিয়ম অনুযায়ী জুলাইয়ে একাদশের পাঠদান শুরু হওয়ার কথা থাকলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থী ভর্তি সম্পন্ন করে অক্টোবরের দিকে ক্লাস শুরু করা সম্ভব হতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভর্তি কার্যক্রমের এই দীর্ঘসূত্রতার কারণে শিক্ষার্থীরা শুরুতেই প্রায় তিন মাসের সেশনজটে পড়ার ঝুঁকিতে পড়েছে, যা তাদের আগামী এইচএসসি পরীক্ষার পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

