ভারতের রাজধানী দিল্লির নারেলায় প্রাতঃভ্রমণে বেরিয়ে একটি দ্রুতগতির মার্সিডিজ গাড়ির নির্মম ধাক্কায় এক প্রবীণ নারীর করুণ মৃত্যু হয়েছে। মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনায় অভিযুক্ত গাড়িচালককে ঘটনাস্থল থেকেই গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ।
শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল আটটার দিকে নারেলার মামুরপুর এলাকার ‘হিমালয়া অ্যাপার্টমেন্টের’ সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত প্রবীণ নারীর নাম উর্মিলা (৭০), তিনি ওই এলাকারই স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ঘাতক মার্সিডিজ গাড়িটি চালাচ্ছিলেন শুভম নামের এক যুবক, যিনি হরিয়ানা পুলিশের এক সাব-ইন্সপেক্টরের ছেলে। প্রত্যক্ষদর্শীদের জোরালো দাবি, দুর্ঘটনার সময় শুভম মারাত্মক মদ্যপ অবস্থায় বেপরোয়া গতিতে গাড়িটি চালাচ্ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রাথমিক তদন্তের বিবরণ অনুযায়ী, নিয়ন্ত্রণহীন মার্সিডিজটি প্রথমে রাস্তার পাশে থাকা একটি ওয়াগন-আর গাড়িকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে ওয়াগন-আর গাড়িটি ছিটকে গিয়ে পেছনে পার্ক করে রাখা একটি থ্রি-হুইলার লোডিং ভ্যানের ওপর গিয়ে পড়ে। ঠিক সেই মুহূর্তেই ফুটপাত ধরে হেঁটে যাওয়া বৃদ্ধা উর্মিলা গাড়ি দুটি এবং ভ্যানের মাঝখানে আটকা পড়ে পিষ্ট হন। আশঙ্কাজনক অবস্থায় রক্তাক্ত বৃদ্ধাকে উদ্ধারের চেষ্টা করা হলেও ঘটনাস্থলেই তাঁর প্রাণহানি ঘটে।
দুর্ঘটনার ভয়াবহতা প্রত্যক্ষ করে স্থানীয় বাসিন্দারা গাড়িটিকে ঘিরে ফেলে। গাড়ির ভেতর কাপ হোল্ডারে মদের বোতল রাখা ছিল বলে জানান তাঁরা। জানা গেছে, বিলাসবহুল এই মার্সিডিজ গাড়িটি শুভম তাঁর এক বন্ধুর কাছ থেকে সাময়িকভাবে চালানোর জন্য ধার নিয়েছিলেন। গ্রেপ্তারের পরপরই অভিযুক্ত শুভমকে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে মেডিকেল পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে এবং তাঁর শরীরে অ্যালকোহলের উপস্থিতি নিশ্চিত হতে রিপোর্ট পর্যালোচনা করা হচ্ছে।
নয়াদিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, অবহেলাজনিত মৃত্যু এবং বেপরোয়া গাড়ি চালনার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শহর অঞ্চলে দ্রুত গতিতে বিলাসবহুল গাড়ি চালনার এই মারাত্মক প্রবণতা জননিরাপত্তাকে আবারও বড় ধরনের হুমকির মুখে ফেলে দিল।

