আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আদালতেই নির্ধারিত হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ আদালতের সিদ্ধান্তের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার চলমান রয়েছে এবং এ বিষয়ে সংবিধানে প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে।

শনিবার (৮ আগস্ট) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবন মিলনায়তনে ‘ফ্যাসিস্ট সরকার পতনে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের দুই বছর পূর্তি উপলক্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল ও ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হলেও এর রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে বিভিন্ন সময়ে প্রশ্ন উঠেছিল। তিনি বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ছিল ছাত্র-জনতার দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ এবং এ সময় দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় বড় পরিবর্তন এসেছে।

তিনি আরও বলেন, দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে মতপার্থক্য থাকলেও জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা জরুরি। নতুন রাজনৈতিক দল গঠন কিংবা বিভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান গ্রহণের সুযোগ থাকলেও বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করে রাজনীতি করার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

ভারতে শেখ হাসিনাকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার বিষয়েও সমালোচনা করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, এ ধরনের কর্মকাণ্ড দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা হবে বলেও তিনি জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে চলমান বিচারপ্রক্রিয়া এবং আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ দেশের আইন ও সংবিধানের কাঠামোর মধ্যেই নির্ধারিত হবে। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে রাজনৈতিক নেতৃত্বকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ইউট্যাবের নেতারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের ভূমিকা ও শহীদদের স্মরণে একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামের ধারাবাহিকতার প্রতিফলন। তিনি দাবি করেন, ওই আন্দোলনে বিএনপির প্রত্যক্ষ সমর্থন ছিল এবং দলের বহু নেতাকর্মী প্রাণ হারিয়েছেন। একই সঙ্গে শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান ও সেখান থেকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ নিয়েও তিনি সমালোচনা করেন।

অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহত আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরাম, মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধ ও ইকরামুল হক সাজিদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা দেওয়া হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *