প্রধান খবর

দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের বিষাক্ত ফসফরাস বোমা হামলা 

দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তঘেঁষা আবাসিক এলাকায়  ক্ষতিকর সাদা ফসফরাস বোমা ব্যবহার করে নজিরবিহীন বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। রাষ্ট্রীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, শুক্রবার দক্ষিণ লেবাননের মানসুরি শহরের একটি ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকাকে লক্ষ্য করে এই প্রাণঘাতী হামলাটি চালানো হয়। আকস্মিক এই হামলায় পর পর কয়েকটি শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুরো এলাকা মুহূর্তের মধ্যে ঘন ও বিষাক্ত সাদা ধোঁয়ায় ঢেকে যায়।

গত বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রশাসনের সরাসরি মধ্যস্থতায় বৈরুত এবং তেল আবিবের মধ্যে সংঘাত নিরসনে সপ্তম দফার একটি কূটনৈতিক আলোচনা শেষ হয়েছে। এ ছাড়া চলতি বছরের ২৬ জুন দুদেশের প্রতিনিধিরা একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছায়, যেখানে একটি পরীক্ষামূলক নিরাপত্তা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিতর্কিত অঞ্চল থেকে পর্যায়ক্রমে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে আলোচনা ও আনুষ্ঠানিক চুক্তি সত্ত্বেও লেবানন ভূখণ্ডে কোনোভাবেই থামছে না ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ক্রমাগত ইসরায়েলি অভিযানে লেবাননে তৈরি হয়েছে ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয়। লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে প্রকাশিত সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, অনবরত চলা এই সামরিক অভিযানে এ পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৩৩ জনের বেশি প্রাণহানি ঘটেছে। একই সঙ্গে এই ভয়াবহ হামলায় পঙ্গুত্ব ও গুরুতর আঘাতের শিকার হয়েছেন অন্তত ১২ হাজার ২৫০ জন বেসামরিক নাগরিক।

সামরিক বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আবাসিক অঞ্চলে বিমান থেকে রাসায়নিক ফসফরাস বোমা নিক্ষেপের ফলে বাতাস বিষাক্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা সুদূরপ্রসারী পরিবেশগত ও শারীরবৃত্তীয় ক্ষতিসাধন করে। কূটনৈতিক পর্যায়ে শান্তি আলোচনা চলায় বেসামরিক লোকজনের ওপর এমন বিধ্বংসী অস্ত্রের প্রয়োগ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতির চরম লঙ্ঘন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা। লাগাতার এসব হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতির আরও চরম অবনতি ঘটছে এবং লাখ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *