জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার বসুরহাট পৌরসভার সাবেক বিতর্কিত মেয়র আবদুল কাদের মির্জা, তাঁর স্ত্রী আখতার জাহান বকুল এবং ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে পৃথক তিনটি দুর্নীতি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তাদের বিরুদ্ধে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৫২ লাখ ৫৪ হাজার ৯৫ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও নিজেদের ভোগদখলে রাখার গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
গত সোমবার (১২ অক্টোবর) নোয়াখালীতে অবস্থিত দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো আনুষ্ঠানিকভাবে রুজু করা হয়। তিনটি মামলারই বাদী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক চিন্ময় চক্রবর্তী।
দুদকের এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রথম মামলাটি দায়ের করা হয়েছে সাবেক মেয়র আবদুল কাদের মির্জার বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে ১ কোটি ১৯ লাখ ৯৬ হাজার ৯৫০ টাকার অবৈধ ও জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আনা হয়েছে। দুদকের নিবিড় অনুসন্ধান শেষে তাঁর নামে মোট ২ কোটি ৩৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭০৪ টাকার নিট সম্পদ পাওয়া যায়, যার বিপরীতে তাঁর বৈধ আয়ের উৎস মেলে মাত্র ১ কোটি ৫৫ লাখ ৮৮ হাজার ১০৪ টাকার। ১৯৯৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন দীর্ঘ মেয়াদে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে তিনি ক্ষমতার অপব্যবহার করে এই অবৈধ সম্পদ গড়ে তোলেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দ্বিতীয় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে কাদের মির্জার স্ত্রী ও গৃহিণী আখতার জাহান বকুলের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৫০ লাখ ৮৩ হাজার ৪০০ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ এনেছে দুদক। এজাহারে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে যে, মূলত স্বামী আবদুল কাদের মির্জার প্রত্যক্ষ সহায়তা ও অবৈধ ক্ষমতার জোরে এবং পরস্পর যোগসাজশে তিনি এই বিপুল পরিমাণ সম্পত্তির মালিক হয়েছেন। এই মামলায় প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে স্ত্রীর নাম থাকলেও অবৈধ সম্পদ অর্জনে সহায়তা করার অপরাধে স্বামী আবদুল কাদের মিাকেও অন্যতম আসামি করা হয়েছে।
তৃতীয় ও সর্বশেষ মামলাটি দায়ের করা হয়েছে কাদের মির্জার ছেলে মির্জা মাসরুর কাদের তাশিকের বিরুদ্ধে। তাঁর বিরুদ্ধে ৮১ লাখ ৭৩ হাজার ৭৪৫ টাকার অসংগতিপূর্ণ ও অবৈধ সম্পদের প্রমাণ পেয়েছে দুদক। তিনি পেশায় একজন শিক্ষার্থী হওয়া সত্ত্বেও বসুরহাট বাজারে তাঁর নামে একটি বড় রড-সিমেন্টের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ৮৫ লাখ ৪০ হাজার টাকার বিশাল বিনিয়োগ পাওয়া গেছে। অথচ এই ব্যবসায়ের প্রাথমিক পুঁজি বা মূলধনের কোনো বৈধ বা সুনির্দিষ্ট আয়ের উৎস দেখাতে পারেননি তিনি। বাবার প্রত্যক্ষ সহায়তায় এই অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ মেলায় এই মামলাতেও কাদের মির্জাকে সহযোগী আসামি করা হয়েছে।
দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় এই মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে। দুদক জানিয়েছে, প্রাথমিক অনুসন্ধান ও মামলার তদন্তকালে যদি এই দুর্নীতির সাথে অন্য কারও প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়, তবে তাদেরও আইনগত প্রক্রিয়ার আওতায় এনে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

