ইসরায়েলের উত্তরাঞ্চলে একটি শিক্ষাসফরে গিয়ে ভয়াবহ এক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। লেবানন সীমান্তের নিকটবর্তী একটি বনাঞ্চলে পড়ে থাকা ক্লাস্টার বোমা বিস্ফোরিত হয়ে ১৩ বছর বয়সী এক স্কুলছাত্র ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারিয়েছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আরও অন্তত ২৪ জন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক গুরুতর আহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে স্থানীয় চিকিৎসাকেন্দ্রগুলো।
গত সোমবার নাফতালি মাউন্টেনস ফরেস্টের একটি প্রাকৃতিক ট্রেইলে হাঁটার সময় শিক্ষার্থীরা ওই অবিস্ফোরিত বোমার মুখোমুখি হয়। শিশুদের কৌতূহলবশত একটি বস্তু হাতে নেওয়ার মুহূর্তেই বিকট শব্দে সেটি বিস্ফোরিত হয়। জানা গেছে, নির্ধারিত রুটটি ব্যবহারের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন থাকলেও সংশ্লিষ্ট বন এলাকায় প্রবেশের ওপর স্থানীয় কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে আগেই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছিল।
নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর প্রাথমিক ধারণা অনুযায়ী, ইসরায়েলজুড়ে বিগত বিভিন্ন সংঘাতে ব্যবহৃত হাজার হাজার অবিস্ফোরিত অস্ত্র ও সাবমিউনিশন ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় হিজবুল্লাহর নিক্ষিপ্ত রকেটগুলোর কারণে বিস্তীর্ণ অঞ্চলে ক্লাস্টার বোমার অবশিষ্টাংশ ছড়িয়ে পড়ে। দীর্ঘদিন ধরে মাটির নিচে ও ঝোপঝাড়ে লুকিয়ে থাকায় এসব প্রাণঘাতী অস্ত্র সহজে চিহ্নিত করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে, এই প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার পর দায়িত্ব এড়ানোর প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে বিভিন্ন সরকারি সংস্থার মধ্যে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়, পুলিশ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় একে অপরের ঘাড়ে দায় চাপাতে ব্যস্ত। যদিও শিক্ষা সফর পরিচালনাকারী কর্তৃপক্ষ কোনো নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছে, তবুও পুরো ঘটনায় কোনো ধরনের নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
অবিস্ফোরিত অস্ত্র অপসারণে সমন্বিত ও বিস্তৃত অভিযানের চরম অভাবের কারণে এমন ট্র্যাজেডির পুনরাবৃত্তির ঝুঁকি দিন দিন বেড়েই চলেছে। জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত হাঁটার পথ ও কৃষিজমিতে লুকিয়ে থাকা এসব বিস্ফোরকের কারণে বর্তমানে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরম নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

