প্রশাসনের নিয়মিত অভিযান ও নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও নড়াইলের বিভিন্ন জলাশয়ে অবাধে ব্যবহার হচ্ছে নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারি জাল। কম পরিশ্রমে বেশি মাছ ধরার সুবিধায় জেলেদের মধ্যে এ জালের ব্যবহার বাড়ছে। এতে দেশীয় মাছের পোনাসহ বিভিন্ন জলজ প্রাণী ধ্বংস হওয়ায় হুমকির মুখে পড়েছে জেলার প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য।
সরেজমিনে দেখা গেছে, নড়াইলের রুখালী, মাইজপাড়া, ইছামতী, কলোড়া, পাটেশ্বরী ও দুধপাতলসহ বিভিন্ন বিল এবং খাল-নদীতে চায়না দুয়ারি ব্যবহার করা হচ্ছে। অত্যন্ত সূক্ষ্ম ফাঁসের এ জালে ছোট-বড় মাছের পাশাপাশি পোনা, কাঁকড়া ও অন্যান্য জলজ প্রাণী আটকা পড়ে। অনেক ক্ষেত্রে বিক্রির অনুপযোগী পোনা পানিতে ফিরিয়ে না দেওয়ায় সেগুলো মারা যাচ্ছে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জেলায় ২৪টি অভিযান ও আটটি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২৯ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ এবং ১৯ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়। তবু চায়না দুয়ারির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হচ্ছে না।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান জানান, নড়াইলের প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো দেশীয় মাছের গুরুত্বপূর্ণ আবাসস্থল। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নিষিদ্ধ জালের ব্যবহার বেড়ে যায়। জনবল ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের সংকটে চাহিদা অনুযায়ী অভিযান পরিচালনা করা যাচ্ছে না উল্লেখ করে তিনি স্থানীয় বাসিন্দা ও জনপ্রতিনিধিদের সচেতনতা বৃদ্ধিসহ এ জালের ব্যবহার প্রতিরোধে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।

