প্রধান খবর

ইউক্রেনে বাণিজ্যিক জাহাজে রুশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা: নিহত ১০

ইউক্রেনের কৃষ্ণসাগরীয় ওডেসা বন্দরের কাছে একটি বাণিজ্যিক জাহাজে প্রাণঘাতী ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় চার ভারতীয় নাগরিকসহ অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। ১৯ জুলাই সন্ধ্যায় গিনি-বিসাউয়ের পতাকাবাহী ‘এমভি গোল্ডেন লিও’ নামের ওই খাদ্যশস্যবাহী জাহাজে এ হামলার ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে ইউক্রেনীয় নৌবাহিনীর একজন মারিটাইম পাইলট এবং সিরিয়ার নাগরিকও রয়েছেন। একই ঘটনায় আরও এক ভারতীয় ক্রু গুরুতর আহত হয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন।

ইউক্রেনীয় সামরিক সূত্রের দাবি, ভুট্টাবোঝাই জাহাজটিকে লক্ষ্য করে রাশিয়া তিনটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। যার ফলে মুহূর্তেই জাহাজটিতে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে এবং লেলিহান শিখায় তা পুড়ে যেতে থাকে। সারারাত পরিচালিত জটিল উদ্ধার অভিযানে ১৭ জন ক্রুর মধ্যে ৮ জনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও ১০ জনের সলিলসমাধি ঘটে। জানা গেছে, মুম্বাইভিত্তিক ‘ওশেন গ্রেস শিপিং লিমিটেড’-এর মালিকানাধীন এই জাহাজে মোট ১৭ জন ক্রু দায়িত্ব পালন করছিলেন, যাদের মধ্যে পাঁচজন ছিলেন ভারতীয় এবং অবশিষ্টরা ছিলেন সিরিয়ার অধিবাসী।

বাণিজ্যিক জাহাজে এই প্রাণঘাতী হামলার পর নয়াদিল্লি থেকে অত্যন্ত কড়া প্রতিক্রিয়া জানানো হয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক আনুষ্ঠানিকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছে, “বাণিজ্যিক ও বেসামরিক জাহাজে হামলা চালানো, নিরপরাধ ক্রু সদস্যদের জীবন বিপন্ন করা এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় মুক্ত নৌ চলাচলে বাধা সৃষ্টি করা সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।” নয়াদিল্লির পক্ষ থেকে নিহতদের স্বজনদের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করে আহত ভারতীয় নাবিকের দ্রুত সুস্থতা কামনা করা হয়েছে। পাশাপাশি কিভ ও ওডেসায় অবস্থিত ভারতীয় দূতাবাস সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোকে প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক ও আইনি সহায়তা প্রদান করছে।

কৃষ্ণসাগরীয় অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ের মধ্যে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ ও প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা বলে অভিহিত করেছেন ইউক্রেনীয় কর্মকর্তারা। চলতি মাসেই ওডেসা অঞ্চলে রুশ হামলায় ২৮ জন বেসামরিক লোক প্রাণ হারিয়েছেন। এর পাল্টাজবাব হিসেবে রাশিয়ার বেলগোরোদ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় শিশুসহ ৫ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দুই দেশের এই রক্তক্ষয়ী ও পাল্টাপাল্টি হামলায় নিরীহ মানুষ ও বাণিজ্যিক ক্রুদের প্রাণহানি ঘটায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করছে আন্তর্জাতিক মহল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *