প্রধান খবর

ফুটবলের বিস্ময় লামিন ইয়ামাল: সাফল্যের নেপথ্যে এক অদম্য মুসলিম নারীর আত্মত্যাগ

বর্তমান বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে উজ্জ্বল ও উদীয়মান নক্ষত্রদের একজন লামিন ইয়ামাল। বার্সেলোনা এবং স্পেন জাতীয় দলের জার্সি গায়ে ফুটবল মাঠে একের পর এক অবিশ্বাস্য নৈপুণ্য দেখিয়ে তিনি এখন কোটি ফুটবলপ্রেমীর হৃদয়ে অবস্থান করছেন। তবে মাঠের সবুজ ঘাসে আলো ছড়ানো এই তরুণ ফরোয়ার্ডের আজকের বিশ্বমঞ্চে পৌঁছানোর গল্পটি কেবল ফুটবলীয় দক্ষতার নয়; এর নেপথ্যে লুকিয়ে আছে এক মুসলিম পরিবারের সীমাহীন সংগ্রাম, ঝুঁকি ও কঠিন আত্মত্যাগের মহাকাব্য।

অনুসন্ধানী তথ্যমতে, ইয়ামালের আজকের এই রাজকীয় সাফল্যের মূল ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছিল আজ থেকে কয়েক দশক আগে। তার দাদি ফাতিমা রোমানি পরিবারের জন্য একটি সুরক্ষিত ও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে মরক্কো ছেড়ে একা স্পেনের উদ্দেশে পাড়ি জমান। কোনো বৈধ কাগজপত্র বা পর্যাপ্ত অর্থ সম্বল ছাড়া সম্পূর্ণ অচেনা একটি দেশে একা পাড়ি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি ছিল চরম ঝুঁকিপূর্ণ।

স্পেনে পৌঁছানোর পর ফাতিমা প্রথমে আলজেসিরাস ও গ্রানাদায় কিছুদিন অবস্থান করেন। পরবর্তীতে তিনি স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন কাতালুনিয়ার মাতোরো শহরের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত এলাকা ‘রকাফোন্দা’য়। সেখানে শুরুতে কোনো মাথার ওপর ছাদ বা সুনির্দিষ্ট আর্থিক সংস্থান ছিল না। মরক্কোতে রেখে আসা নিজের সন্তানদের (যার মধ্যে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই-ও ছিলেন) স্পেনে এনে পুনর্মিলিত করার লক্ষ্যে ফাতিমা দিনে-রাতে একাধিক শিফটে কঠোর পরিশ্রম শুরু করেন। নিজের হাড়ভাঙা খাটুনিতে জমানো অর্থ দিয়ে শেষ পর্যন্ত তিনি সন্তানদের নিজের কাছে এনে পরিবারকে একসূত্রে বাঁধতে সক্ষম হন।

পরবর্তী সময়ে ইয়ামালের শৈশবকালেই তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে গেলে দাদি ফাতিমা আবারও পরিবারের মূল স্তম্ভ হয়ে দাঁড়ান। রকাফোন্দার কঠিন ও অনগ্রসর পরিবেশের মধ্যেও তিনি শিশু ইয়ামালকে আগলে রাখেন, মনস্তাত্ত্বিক সুরক্ষা দেন এবং ফুটবলের প্রতি মনোযোগ ধরে রাখতে নিরন্তর অনুপ্রাণিত করেন।

পেশাদার ফুটবলের শীর্ষ স্তরে পৌঁছানোর পরও ইয়ামাল ভুলেও নিজের শিকড় বা দাদির ত্যাগের কথা ভুলে যাননি। মাঠে গোল উদযাপনে তিনি দু’হাতের আঙুল দিয়ে যে ‘৩০৪’ সংখ্যাটি তুলে ধরেন, তা মূলত রকাফোন্দা এলাকার পোস্টাল কোড (০৮৩০৪)-এর প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার প্রতীক।

ইয়ামালের অকপট স্বীকারোক্তি- ফুটবল মাঠে ট্রফি জেতার চেয়েও তার কাছে সবচেয়ে বেশি আনন্দের হলো নিজের বাবা, মা ও দাদিকে সুখে ও শান্তিতে রাখা। বিশ্ব ফুটবলে নিজের অবস্থান তৈরি করার পর ইয়ামাল তার অর্জিত প্রথম দিকের অর্থ দিয়েই রকাফোন্দাতে দাদি ফাতিমাকে একটি সুন্দর বাড়ি কিনে দিয়েছেন; যেখানে তিনি আজও বসবাস করছেন। বিশ্বমঞ্চে তুমুল জনপ্রিয়তা ও আলোচনার কেন্দ্রে থাকার পরও নিজের অতীত এবং দাদির সেই অদম্য ত্যাগের কথা সব সময় পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এই স্প্যানিশ তারকা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *