২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপ ফুটবলের রোমাঞ্চকর ফাইনালে শেষ হাসি হেসেছে স্পেন। নির্ধারিত সময় পেরিয়ে অতিরিক্ত সময়ের উত্তেজনাকর ম্যাচে ফুটবল কিংবদন্তি লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের ফুটবলের ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বসেরার মুকুট অর্জন করে স্প্যানিশরা। পরবর্তীতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হাত থেকে স্বপ্নের চ্যাম্পিয়ন ট্রফি গ্রহণ করেন স্প্যানিশ দলের অধিনায়ক।
মাঠের খেলা শেষে স্পেনের এই ঐতিহাসিক বিশ্বজয়ে বাঁধভাঙা আনন্দের বন্যা বইছে ফিলিস্তিনজুড়ে। বিশেষ করে টানা ইসরাইলি আগ্রাসনে বিপর্যস্ত ও অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় এই জয় কেবল সাধারণ কোনো ক্রীড়াসফলতায় সীমাবদ্ধ থাকেনি; বরং তা রূপ নিয়েছে ফিলিস্তিনিদের প্রতি স্পেনের ধারাবাহিক সমর্থনের এক আবেগঘন কৃতজ্ঞতাপ্রকাশে।
বিদ্যুৎহীন ও ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া গাজায় ব্যক্তিগতভাবে খেলা দেখার সুযোগ না থাকায় বিভিন্ন খোলা মাঠ ও ক্যাফেতে বড় পর্দার ব্যবস্থা করা হয়। রেফারির শেষ বাঁশির সাথে সাথেই পুরো গাজা মুখরিত হয় স্বতঃস্ফূর্ত উদযাপনে। স্পেনের পতাকা হাতে রাস্তায় নেমে আসে ফিলিস্তিনি শিশু ও তরুণরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা যায়, বছরের পর বছর ধরে নৃশংসতায় জর্জরিত গাজার শিশুরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরে এই বিরল জয়ের আনন্দ ভাগাভাগি করে নিচ্ছে।
ফুটবল মাঠের এই জয় ফিলিস্তিনের রাজনৈতিক অঙ্গনেও বড় সাড়া ফেলেছে। প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস স্পেনের রাজা ষষ্ঠ ফিলিপ ও প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজকে পাঠানো অভিনন্দন বার্তায় একে ‘মহৎ বৈশ্বিক ক্রীড়া অর্জন’ হিসেবে আখ্যা দেন। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাসেম নাঈমও স্পেনের এই অর্জনকে স্বাগত জানান। এছাড়া অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেম, হেব্রন ও নাবলুসে স্প্যানিশ ও ফিলিস্তিনি পতাকা নিয়ে জয়োল্লাস করেন সাধারণ মানুষ।
ফিলিস্তিনিদের এই গভীর ভালোবাসার মূল ভিত্তি হলো ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের প্রতি স্পেনের শক্ত কূটনৈতিক অবস্থান। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের মে মাসে স্পেন আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে ইসরাইলের ওপর অস্ত্র নিষেধাজ্ঞা জারি ও রাষ্ট্রদূত প্রত্যাহারসহ বিভিন্ন জোরালো পদক্ষেপ নেয় মাদ্রিদ। সম্প্রতি স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেড্রো সানচেজ ইইউকে ইসরাইলের সাথে চুক্তি স্থগিত করার আহ্বানও জানান।
অন্যদিকে, ইসরাইলপন্থী অবস্থান নেওয়া আর্জেন্টাইন প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেইয়ের আর্জেন্টিনার পরাজয়ও ফিলিস্তিনিদের মনে এক ধরনের রাজনৈতিক স্বস্তি এনে দিয়েছে। যুদ্ধকালীন অগণিত কষ্ট ও বৈরিতার মধ্যেও স্পেনের এই ট্রফি জয় ফিলিস্তিনিদের জীবনে মুহূর্তের জন্য হলেও স্বস্তির নিঃশ্বাস এবং পরম বিশ্বস্ত বন্ধুদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশের দারুণ এক উপলক্ষ তৈরি করে দিয়েছে।

