প্রধান খবর

সংঘাতের তীব্রতা বৃদ্ধি: ইরানের হামলায় কুয়েতের বিদ্যুৎকেন্দ্রে ভয়াবহ আগুন

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টানা অষ্টম দিনের সামরিক অভিযানের জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের অন্যতম দুই মিত্র দেশ কুয়েত ও বাহরাইনে ব্যাপক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইরানি হামলায় কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিদ্যুৎ ও পানি উৎপাদন কেন্দ্রে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির স্থানীয় কর্তৃপক্ষ। একই সময়ে বাহরাইনও একাধিক দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও আকাশপথে হামলার মুখোমুখি হয়।

কুয়েতের বিদ্যুৎ, পানি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই আক্রমণকে ‘জঘন্য ইরানি আগ্রাসন’ বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে, বাহরাইনের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছে যে, তাদের সমন্বিত আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের হামলা সফলভাবে প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে। তবে ইরানের সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোববার কুয়েতে মার্কিন সেনাদের ব্যবহৃত ‘ক্যাম্প আল-আদিরি’র গোলাবারুদ গুদাম এবং ‘আলি আল-সালেম’ বিমানঘাঁটির আকাশ প্রতিরক্ষা রাডার লক্ষ্য করে এই সুনির্দিষ্ট হামলা চালানো হয়।

ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থায় প্রকাশিত এক সামরিক বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সার্বভৌমত্ব ও জনগণকে শত্রুর হাত থেকে রক্ষায় সেনাসদস্যরা যেকোনো পদক্ষেপ নিতে অবিচল থাকবে। এই হামলা-পাল্টা হামলার রেশ ধরে পুরো অঞ্চলজুড়ে তীব্র যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি ইসরায়েল সীমান্ত সংলগ্ন জর্ডানের দিকেও ইরান ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী, যা পরবর্তীতে যৌথ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আকাশে ভূপাতিত করা হয়।

মূলত জর্ডানে মার্কিন সামরিক কর্মী নিহত হওয়া এবং হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার অশুভ চেষ্টার জবাব হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র সম্প্রতি ইরানের হরমোজগান, খুজেস্তান ও কেশম দ্বীপে ব্যাপক বোমাবর্ষণ শুরু করে। মার্কিন অভিযানের পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ইরান এখন উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে, যা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত ও ধ্বংসাত্মক যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *