নিউ ইয়র্কের মেটলাইফ স্টেডিয়ামে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ের ঐতিহাসিক ও আনন্দঘন মুহূর্তটি এক অনাকাঙ্ক্ষিত বিতর্কে রূপ নিয়েছে। ফুটবলের সর্ববৃহৎ মহাযজ্ঞে চ্যাম্পিয়ন দল স্পেনের হাতে কাঙ্ক্ষিত সোনালী ট্রফি তুলে দেওয়ার পর মঞ্চ না ছেড়ে টানা অবস্থান করায় তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রফি হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্বমঞ্চে ট্রাম্পের এমন অদ্ভুত ও অনমনীয় আচরণ নিয়ে ক্রীড়াবিশ্বে ব্যাপক তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে।
আন্তর্জাতিক ফুটবলের প্রচলিত নিয়ম ও সাধারণ শিষ্টাচার অনুযায়ী ট্রফি হস্তান্তরের পর ট্রাইব্যুনাল বা মঞ্চ ত্যাগ করার কথা ছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে দীর্ঘক্ষণ অনড় হয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর মতে, স্বয়ং ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো তাকে বিনীতভাবে ডায়াস ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছিলেন। কিন্তু সেই অনুরোধ পুরোপুরি উপেক্ষা করেন ট্রাম্প। ফলে স্প্যানিশ ফুটবলাররা যখন ট্রফি উঁচিয়ে ঐতিহাসিক জয় উদযাপনে মেতে ওঠেন, ঠিক সেই সময় তাঁদের উদযাপনের ঠিক পাশেই মার্কিন প্রেসিডেন্টের অনাকাঙ্ক্ষিত উপস্থিতি এক চরম অস্বস্তিকর পরিবেশ তৈরি করে। ঘটনাটি নিয়ে মুহূর্তের মধ্যেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনার ঝড় ওঠে।
মঞ্চের এই বিতর্কিত ঘটনা ছাড়াও পুরো ম্যাচজুড়েই গ্যালারির দর্শকদের তোপের মুখে ছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। স্টেডিয়ামে তাঁর আগমনকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তা কড়াকড়ি আরোপ করায় হাজার হাজার সাধারণ সমর্থককে দীর্ঘ সময় বাইরে অপেক্ষা করতে হয়, যা ম্যাচের শুরুতেই চরম বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি করে। পরবর্তীতে খেলা চলাকালীন স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে ট্রাম্পের মুখ ভেসে উঠলেই গ্যালারিতে উপস্থিত ক্ষুব্ধ দর্শকেরা উচ্চশব্দে ভুয়াধ্বনি দিতে থাকেন। এমনকি জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সময়ও দর্শকদের একাংশ তাঁর উপস্থিতির প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক ক্রীড়া উৎসবের সমাপনী মঞ্চে রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের এমন আচরণ স্পেনের বিশ্বজয়ের স্বাভাবিক আনন্দকে কিছুটা হলেও ম্লান করেছে বলে মনে করছেন বিশ্ব ক্রীড়া বিশ্লেষকেরা। মাঠের পারফরম্যান্সের পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই অনাকাঙ্ক্ষিত কাণ্ডই এখন ২০২৬ বিশ্বকাপের সমাপনী অনুষ্ঠানের সবচেয়ে বেশি চর্চিত বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

