যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার জন্য ১ কোটি ডলার (১০০ মিলিয়ন) পুরস্কার ঘোষণা করেছে ইরানপন্থী ইরাকি মিলিশিয়াদের একটি শক্তিশালী জোট। এই চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন ঘোষণার মাধ্যমে ওয়াশিংটন এবং তেহরানের আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে আগে থেকেই বিরাজমান তীব্র উত্তেজনা এখন আরও কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর জোট ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ (আইআরআই) এক বিশেষ বিবৃতিতে এই পুরস্কারের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানায়। সম্প্রতি হোয়াইট হাউসে ইরাকের প্রধানমন্ত্রী আলী আল-জায়েদির সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। সেখানে ট্রাম্প ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার মেজর জেনারেল কাসেম সোলাইমানি এবং ইরাকি মিলিশিয়া নেতা আবু মাহদি আল-মুহান্দিসকে ড্রোন হামলায় হত্যার পেছনে নিজের প্রত্যক্ষ ভূমিকার কথা প্রকাশ্যে উল্লেখ করেন। এই বক্তব্যের পরপরই ক্ষুব্ধ ইরাকি প্রতিরোধ যোদ্ধাদের পক্ষ থেকে ট্রাম্পকে হত্যার এই ঘোষণা আসে।
জোটটির পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘যে কেউ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যা করবে অথবা এ ধরনের কোনো অভিযান পরিচালনার জন্য অর্থায়ন বা কৌশলগত সহায়তা প্রদান করবে, তাকে এই ১ কোটি ডলার পুরস্কার দেওয়া হবে।’ মিলিশিয়া গোষ্ঠীটি দাবি করেছে, তাদের সদস্য ও সমর্থকদের স্বতঃস্ফূর্ত অনুদানের মাধ্যমে এই বিশাল অঙ্কের অর্থ সংগ্রহ করা হয়েছে। বিবৃতিতে আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, বিশ্বের স্বাধীনতাকামী মানুষ শিশু ও বিজ্ঞানীদের এই কুখ্যাত হত্যাকারীর পিছু ধাওয়া অব্যাহত রাখবে এবং শহীদদের রক্ত এই অহংকারী শাসকদের সিংহাসন কাঁপিয়ে দেবে।
উল্লেখ্য, ‘ইসলামিক রেজিস্ট্যান্স ইন ইরাক’ কোনো একক সংগঠন নয়; এটি মূলত ইরান-সমর্থিত বেশ কয়েকটি শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীর একটি শক্তিশালী মোর্চা। এর মধ্যে কাতাইব হিজবুল্লাহ, হারাকাত হিজবুল্লাহ আল-নুজাবা, কাতাইব সাইয়্যিদ আল-শুহাদা এবং আসাইব আহল আল-হকের মতো দুর্ধর্ষ দলগুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, এই গোষ্ঠীগুলো ইরাক, সিরিয়া এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও তাদের কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। চলমান মার্কিন-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এই মিলিশিয়া জোটটি এখন তেহরানের সীমান্তের বাইরে সামরিক চাপ প্রয়োগের অন্যতম প্রধান হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে, যা পুরো মধ্যপ্রাচ্যকে এক অনিশ্চিত যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

