কুমিল্লায় ধানক্ষেত থেকে কিশোরীর মরদেহ উদ্ধার, আটক ১

কুমিল্লার লালমাই উপজেলায় ফসলি জমি থেকে স্কুলশিক্ষার্থী জান্নাতুল তাজমিনের (১৫) লাশ উদ্ধারের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত সুমনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। চট্টগ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়। এ ঘটনার সঙ্গে অন্য কারো সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছেন তদন্তকারীরা। তবে হত্যাকাণ্ডের শিকার কিশোরীর ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি এখনো উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টার দিকে লালমাই উপজেলার পেরুল উত্তর ইউনিয়নের জগতপুর উত্তরপাড়ার মানুমুড়া জঙ্গলসংলগ্ন একটি ধানক্ষেত থেকে তাজমিনের ক্ষতবিক্ষত লাশ উদ্ধার করে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। লাশটি যখন উদ্ধার করা হয়, তখন তাজমিনের গলায় গামছা পেঁচানো অবস্থায় ছিল। পুলিশ ও স্থানীয়দের প্রাথমিক ধারণা, শ্বাসরোধ করে তাকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে।

নিহত জান্নাতুল তাজমিন যশোর সদর উপজেলার চূড়ামনকাটি ইউনিয়নের ছাতিয়ানতলা এলাকার আবদুল আলীমের মেয়ে। সে কুমিল্লা নগরীর ফরিদা বিদ্যায়তনের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে তাজমিন নগরের রেসকোর্স এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত। ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার স্বজনরা লাশ নিয়ে নিজ গ্রামের উদ্দেশ্যে রওনা হন। এর আগে নিহতের বাবা আবদুল আলীম বাদী হয়ে লালমাই থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৪ অক্টোবর বান্ধবীর বাড়িতে যাওয়ার কথা বলে বাসা থেকে বের হয় তাজমিন। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ ছিল। স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। নিখোঁজের চার দিন পর জনশূন্য এক ফসলি জমিতে মিলে তার নিথর দেহ। এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *