যুক্তরাজ্যের যেকোনো বৈরী পদক্ষেপ বা ভূখণ্ডে আঘাতের কড়া জবাব হিসেবে সম্ভাব্য ‘পারমাণবিক অস্ত্র’ ব্যবহারের এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়েছে রাশিয়া। লন্ডনে অবস্থিত রুশ দূতাবাস এক বিবৃতির মাধ্যমে এই কড়া বার্তা ব্যক্ত করে। বাল্টিক সাগরে অবস্থিত রাশিয়ার অত্যন্ত কৌশলগত ও সামরিক দিক থেকে সুরক্ষিত ছিটমহল ‘কালিনিনগ্রাদ’ অবরোধ অথবা সেখানে সামরিক হামলার সম্ভাবনা নিয়ে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধ ও টেলিভিশন আলোচনার প্রতিপ্রেক্ষিতে এ প্রতিক্রিয়া জানায় মস্কো।
রুশ প্রশাসন সাফ জানিয়ে দিয়েছে, কালিনিনগ্রাদ অঞ্চলে যেকোনো ধরনের আক্রমণকে সরাসরি রাশিয়ার সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা বা আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ হিসেবে গণ্য করা হবে। এর জবাবে পারমাণবিক শক্তি সহ রাশিয়ার সমস্ত সামরিক সক্ষমতা প্রয়োগের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। সম্প্রতি স্কাই টিভির নতুন মিনি-সিরিজ ‘দ্য ওয়ারগেম’-এ ব্রিটিশ মাটিতে কালিনিনগ্রাদ সংকট ও রাশিয়ার সম্ভাব্য কাল্পনিক আঘাত তুলে ধরা হয়। সে বিষয়টির উল্লেখ করে রুশ দূতাবাস সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, কালিনিনগ্রাদ অবরোধ বা হামলা চালানোর পরিকল্পনা যারা করছে, তাদের পরিণাম নিয়ে কোনো ধরনের ভ্রান্তিতে থাকা উচিত নয়।
যুক্তরাজ্যজুড়ে রয়্যাল এয়ারফোর্সের ৩৪টি গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিসমেত সামরিক ও রিজার্ভ মিলিয়ে দুই সহস্রাধিক স্থাপনা রয়েছে। এছাড়া সম্প্রতি রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা ব্রিটেনের ড্রোন তৈরির কারখানা এবং বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। পশ্চিমা বিশ্বের এই ক্রমাগত আক্রমণাত্মক বক্তব্য ও সামরিক মহড়াকে উসকানিমূলক আখ্যা দিয়ে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার বার্তা দিচ্ছে ক্রেমলিন।
একই সময়ে ইউক্রেনের গোয়েন্দা সূত্রে দাবি করা হয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটিগুলোর অবস্থান ও তথ্য ইরানের সাথে আদান-প্রদান করছে মস্কো। বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও যুদ্ধপরিস্থিতি যখন জটিল আকার ধারণ করছে, তখন কালিনিনগ্রাদ নিয়ে লন্ডন ও মস্কোর এই পাল্টাপাল্টি হুঁশিয়ারি পুরো বিশ্বজুড়ে নতুন করে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আতঙ্ক তৈরি করেছে।

