যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘ দুই শতাব্দীরও বেশি সময় পর এই প্রথম কোনো নারী মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখী হতে যাচ্ছেন। মার্কিন অঙ্গরাজ্য টেনেসিতে ১৮ বছর বয়সে সংঘটিত এক নৃশংস হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে ক্রিস্টা পাইক নামের ওই নারীর মৃত্যুদণ্ড বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
মামলার নথি ও গণমাধ্যমের সূত্রে জানা যায়, ১৯৯৫ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ১৮ বছর বয়সে এক হত্যাকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন ক্রিস্টা পাইক। তিনি তার ১৭ বছর বয়সী প্রেমিক ট্যাডারিল শিপ এবং অপর কিশোরী শ্যাডোলা পিটারসনকে সাথে নিয়ে কলিন স্লেমার নামের এক তরুণীকে নক্সভিলের একটি বনে ডেকে নিয়ে যান। পরবর্তীতে সেখানে তাকে নির্মম নির্যাতন চালিয়ে হত্যা করা হয়। প্রসিকিউটরদের মতে, ভুক্তভোগী স্লেমার তার প্রেমিকের দিকে আকৃষ্ট ছিলেন-এমন সন্দেহের বশেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটান পাইক। ঘটনার সময় তিনজনের মধ্যে কেবল পাইক প্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তার বিরুদ্ধেই মৃত্যুদণ্ডের সাজা ঘোষণা করা হয়। অপর আসামি শিপকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয় এবং পিটারসন রাজসাক্ষী হিসেবে সাক্ষ্য দেওয়ায় প্রবেশনে মুক্তি পান।
মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সময় ঘনিয়ে আসায় মানবাধিকার কর্মী, নারী অধিকার সংগঠন এবং ফৌজদারি বিচারব্যবস্থা সংস্কারপন্থীরা পাইকের জীবন রক্ষার জোর দাবি তোলেন। টেনেসির রিপাবলিকান গভর্নর বিল লির কাছে পেশ করা ২২৬ পৃষ্ঠার এক ক্ষমার আবেদনে পাইকের আইনজীবীরা উল্লেখ করেন, অপরাধের সময় তার বয়স ছিল অত্যন্ত কম। পাশাপাশি শৈশব ও কৈশোরে চরম শারীরিক ও যৌন নির্যাতনের স্বীকার হওয়া এই নারীর মানসিক অবস্থা ও প্রেক্ষাপট বিচারে তার মৃত্যুদণ্ড মওকুফ করা উচিত।
তবে সমস্ত আবেদন ও যুক্তি পর্যালোচনা শেষে সোমবার গভর্নরের কার্যালয় থেকে ক্ষমার আবেদন আনুষ্ঠানিকভাবে প্রত্যাখ্যান করা হয়। এক বিবৃতিতে গভর্নর বিল লি জানান, মামলাটি গভীরভাবে পর্যালোচনার পরেই তিনি আদালতের রায় বহাল রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন এবং এতে কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। ফলে মৃত্যুদণ্ড ঠেকানোর শেষ প্রশাসনিক পথটিও বন্ধ হয়ে যায়।
তথ্যমতে, ১৯৭৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রে পুনরায় মৃত্যুদণ্ড আইন চালুর পর ক্রিস্টা পাইক হতে যাচ্ছেন দেশটিতে দণ্ডপ্রাপ্ত ১৯তম নারী। এছাড়া আধুনিক মার্কিন ইতিহাসে ১৮ বছর বয়সে অপরাধ সংঘটিত করে মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হওয়া তিনিই প্রথম ব্যক্তি। মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে শেষ মুহূর্তের একটি আপিল বিচারাধীন থাকলেও টেনেসি সুপ্রিম কোর্ট ইতোমধ্যেই স্থগিতাদেশের আর্জি খারিজ করে দিয়েছে। ফলে আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ন্যাশভিলের রিভারবেন্ড ম্যাক্সিমাম সিকিউরিটি ইনস্টিটিউশনেই বহুল আলোচিত এই সাজা কার্যকর হতে যাচ্ছে।

