ইতালির শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বোরখা ও নিকাব পরিধান নিষিদ্ধ করার নতুন এক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ গ্রহণ করেছে দেশটির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির নেতৃত্বাধীন সরকার। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) এক আনুষ্ঠানিক ঘোষণায় প্রধানমন্ত্রী মেলোনি জানান, স্কুলে মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধের পাশাপাশি দেশের শ্রেণিকক্ষগুলোতে বিদেশি শিক্ষার্থীদের আনুপাতিক সংখ্যা সীমিত করার প্রস্তাবও সংসদে আনা হবে। তবে সরকারের এই নতুন প্রস্তাবনায় হিজাবের ওপর কোনো ধরনের বিধিনিষেধ আরোপের কথা বলা হয়নি।
উল্লেখ্য যে, হিজাব, নিকাব ও বোরখা সম্পূর্ণ ভিন্ন পোশাক ধারা। হিজাবে মূলত চুল ও মাথা ঢাকা থাকলেও মুখমণ্ডল খোলা থাকে, অন্যদিকে নিকাব ও বোরখায় মুখমণ্ডলের অধিকাংশ বা সম্পূর্ণ অংশ আবৃত করা হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোর অধিকাংশ আইনি কঠোরতা মূলত মুখ ঢেকে রাখার এই বিশেষ ব্যবস্থার ওপরই আরোপিত হয়ে থাকে।
ইতালিতে বর্তমানে বোরখা বা নিকাবকে সরাসরি নাম উল্লেখ করে নিষিদ্ধ করার জন্য নির্দিষ্ট কোনো জাতীয় আইন বিদ্যমান নেই। তবে ১৯৭৫ সালে প্রণীত জননিরাপত্তা সংক্রান্ত এক পুরোনো আইনের (আইন নম্বর ১৫২) অনুচ্ছেদ ৫ অনুযায়ী, জনসমক্ষে পরিচয় গোপন করার উদ্দেশ্যে মুখ ঢেকে রাখার ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে। কিন্তু শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বোরখা বা নিকাব পরার বিষয়টিকে এই আইনের আওতায় কীভাবে বিচার করা হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দেশের আইনি ও রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছিল। মেলোনি সরকারের নতুন এই পদক্ষেপের মূল উদ্দেশ্য হলো ইতালি জুড়ে স্কুলের পরিবেশ ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা ও আইনি কাঠামো তৈরি করা।
সমগ্র ইউরোপ জুড়েও এই জাতীয় পোশাক সংক্রান্ত নীতিমালার বৈচিত্র্য লক্ষ্য করা যায়। ফ্রান্স, বেলজিয়াম এবং ডেনমার্কে জনসমক্ষে পুরো মুখ ঢেকে রাখার ওপর পূর্ণাঙ্গ জাতীয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রয়েছে। অন্যদিকে নেদারল্যান্ডস ও জার্মানির মতো দেশগুলোতে শুধু স্কুল, হাসপাতাল বা গণপরিবহনের মতো নির্ধারিত স্থানে মুখঢাকা পোশাকের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। অস্ট্রিয়াতেও ২০১৭ সাল থেকে মুখঢাকা পোশাক নিষিদ্ধের পাশাপাশি সম্প্রতি নির্দিষ্ট বয়সের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে স্কুলে ইসলামিক হেডস্কার্ফের ওপর নতুন নিয়ম করা হয়েছে।
মেলোনি সরকারের এই প্রস্তাবিত নীতিটি এখনো কার্যকর আইনি রূপ লাভ করেনি। খসড়া বিলে বয়সসীমা, কোনো ধরনের স্কুলে এটি কার্যকর হবে এবং অমান্য করলে কী ধরনের দণ্ড বা শাস্তি প্রদান করা হবে-তা এখনও চূড়ান্ত আলোচনার পর্যালোচনায় রয়েছে। ইতালির মূল ধারার বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টির সাথে কেবল পোশাক নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা, সামাজিক মেলবন্ধন এবং ব্যক্তির মৌলিক ধর্মীয় স্বাধীনতার এক গভীর সংযোগ জড়িত রয়েছে।

