ইসরায়েলি বাহিনীর টানা বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় মাটির সঙ্গে মিশে যাওয়া ঘরবাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে আরও ১৭ জন নিখোঁজ ফিলিস্তিনির লাশ ও দেহাবশেষ উদ্ধার করা হয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্স বিভাগ পরিচালিত ‘শহীদদের মরদেহ উদ্ধার’ সংক্রান্ত বিশেষ প্রকল্পের দ্বিতীয় ধাপে এসব মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সির প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই মর্মান্তিক তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। গাজার সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভবন ধসে নিখোঁজ হওয়া নাগরিকদের খুঁজে বের করতে এই বিশেষ উদ্ধার অভিযানটি পরিচালিত হচ্ছে। তবে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও ভারী যন্ত্রপাতি না থাকায় উদ্ধারকাজ অত্যন্ত ধীরগতিতে এগোচ্ছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, অভিযানের দ্বিতীয় ধাপে মূলত উত্তর গাজার গাজা সিটি এবং মধ্য গাজার নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের ধ্বংসাবশেষের নিচে নিখোঁজদের সন্ধানে জোর তৎপরতা চালানো হচ্ছে। গাজা সিটির জেইতুন ও ইয়ারমুক এলাকায় হাজ্জি এবং আল-নাদিম পরিবারের বোমার আঘাতে ধ্বংস হয়ে যাওয়া বাসাবাড়ি থেকে ১৬টি লাশ উদ্ধার করা হয়। এ ছাড়া নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরের আল-ওয়ার পরিবারের ঘরের নিচ থেকে আরও একজনের অবশিষ্টাংশ উদ্ধার করা সম্ভব হয়।
গাজা কর্তৃপক্ষ আক্ষেপ প্রকাশ করে জানায়, আন্তর্জাতিকভাবে অনুমোদিত চুক্তি অনুযায়ী ধ্বংসস্তূপ সরানো ও স্বজনদের মরদেহ উদ্ধারের সুবিধার্থে যেসব আধুনিক ভারী যন্ত্রপাতি গাজায় পৌঁছানোর কথা ছিল, তা এখনো সরবরাহ করা হয়নি। তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১৪৭টি ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনায় পরিচালিত এই প্রকল্পে আরও হাজারেরও বেশি লাশ চাপা পড়ে থাকার আশঙ্কা করা হচ্ছে। উল্লেখ্য, ইসরায়েলি এই বর্বর আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন এবং আহত হয়েছেন এক লাখ ৭৪ হাজারেরও বেশি মানুষ।

