প্রধান খবর

ঝালকাঠিতে এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎহীন রাজাপুর মডেল মসজিদ

ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলা মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে টানা এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ না থাকায় তীব্র গরমে ও পানির সংকটে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন শত শত মুসল্লি। বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় বন্ধ হয়ে পড়েছে বৈদ্যুতিক পাখা, আলো, মাইক ও এসি। একই সঙ্গে পানির পাম্প সচল না থাকায় অযু ও শৌচাগারের স্বাভাবিক কাজ পুরোপুরি ব্যাহত হচ্ছে।

মসজিদ কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা যায়, গত ১ সেপ্টেম্বর বেলা ১১টার দিকে জেনারেটর কক্ষে হঠাৎ বিকট শব্দ হলে খাদেম মো. দেলোয়ার হোসেন জীবন ঝুঁকি নিয়ে মেইন সুইচ বন্ধ করে দেন। পরে দেখা যায়, মেইন ব্রেকারসহ ভেতরের গুরুত্বপূর্ণ বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশ পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গেছে। এরপর থেকেই বিশাল এই ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানটির অভ্যন্তরীণ বিদ্যুৎ সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে পড়ে।

প্রতিদিন এই মসজিদে প্রায় দুই থেকে তিন শতাধিক এবং শুক্রবারে জুমার নামাজে নারী-পুরুষ মিলিয়ে প্রায় ছয় থেকে সাত শতাধিক মুসল্লির সমাগম ঘটে। বর্তমানে অযু ও পানির ব্যবস্থা না থাকায় নামাজের পূর্বে চরম বিপাকে পড়ছেন আগতরা। খাদেম জানান, স্টাফদের দৈনন্দিন কাজের জন্য বাধ্য হয়ে পুকুর থেকে বালতি ভরে পানি আনতে হচ্ছে। মসজিদের পেশ ইমাম মুফতি আলি হোসেন ও স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, পানি না থাকায় দ্রুত অযু করতে বাইরে দৌড়াতে গিয়ে অনেকেরই প্রথম জামাত ছুটে যাচ্ছে।

রাজাপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম মো. আতাউর রহমান জানান, মিটার ও মেইন সুইচ পর্যন্ত লাইনে কোনো ত্রুটি নেই। ভেতরের শর্টসার্কিটের সমস্যা সমাধানের দায়িত্ব তাদের নয়। অন্যদিকে, রাজাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরি জানান, মসজিদটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয়নি। গণপূর্ত বিভাগের ইলেকট্রিক্যাল প্রকৌশলী এসে পরিদর্শন করে গেছেন এবং পুড়ে যাওয়া ভেতরের যন্ত্রাংশগুলো মেরামতে কাজ চলছে। দ্রুত এই ভোগান্তি নিরসনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *