প্রধান খবর

ভাত ও শরবতে বিষ মিশিয়ে স্বামীকে হ’ত্যা: স্ত্রী আটক

পঞ্চগড় সদর উপজেলায় পরকীয়া সম্পর্কের জেরে নিজ স্বামীকে বিষ খাইয়ে নৃশংসভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে স্ত্রীর বিরুদ্ধে। বিষ মেশানো ভাত খেয়ে স্বামী যখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিলেন, তখন উপশমের বদলে শরবতের সঙ্গে আবারও বিষ মিশিয়ে তা খাইয়ে দেওয়া হয়। এই নির্মম ঘটনার অভিযোগে মৌসুমী আক্তার (২৫) নামে এক নারীকে আটক করেছে পুলিশ। নিহত ব্যক্তির নাম আলম হক (৩০)। তিনি ওই এলাকার তসলিম উদ্দীনের ছেলে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৯ বছর আগে আলম হকের সঙ্গে মৌসুমীর বিয়ে হয়। তাদের সাত ও পাঁচ বছর বয়সী দুটি সন্তান রয়েছে। গত শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে স্বামী আলমকে বিষ মেশানো ভাত খেতে দেন মৌসুমী। খাবার শেষে ঘুমিয়ে পড়লে হঠাৎ তীব্র পেটের ব্যথা ও বমি শুরু হয় আলমের। শারীরিক অস্বস্তি দেখে পরিবারের সদস্যরা ছুটে এসে তাকে চিনির শরবত খাওয়ানোর পরামর্শ দেন। এ সময় কৌশল অবলম্বন করে শরবতের সঙ্গে আবারও বিষাক্ত ওষুধ মিশিয়ে আলমকে খাইয়ে দেন মৌসুমী। এতে তার অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে।

অসুস্থ অবস্থায় আলমকে উদ্ধার করে প্রথমে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখান থেকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে দেবীগঞ্জ এলাকায় তার মৃত্যু হয়। ঘটনার পর প্রাথমিক অবস্থায় নিহতের ছোট ভাই জাকির হোসেন থানায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা করেন। তবে ঘটনার ধরন নিয়ে সন্দেহ হলে রোববার পুলিশ লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায় এবং দাফন সম্পন্ন হয়।

পরবর্তী সময়ে সোমবার দুপুরে স্বজনদের মানসিক চাপের মুখে একপর্যায়ে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন স্ত্রী মৌসুমী। তিনি জানান, একই এলাকার বাবুল হোসেন (৩৪) নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে তার পরকীয়া সম্পর্ক ছিল এবং তারই প্ররোচনায় ও দেওয়া বিষাক্ত ওষুধ ভাতের সঙ্গে মেশানো হয়। এমনকি শরবতের সঙ্গেও একই বিষ প্রয়োগ করা হয়েছিল। বিষয়টি জানাজানি হলে স্থানীয়রা পঞ্চগড় সদর থানায় খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মৌসুমীকে আটক করে নিয়ে যায়।

পঞ্চগড় সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোখলেছুর রহমান জানান, আটককৃত নারীকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। পূর্বে দায়ের করা অপমৃত্যুর মামলাটি এখন পূর্ণাঙ্গ হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হচ্ছে। এ ঘটনার প্রধান প্ররোচণাকারী ও পরকীয়া প্রেমিক বাবুলকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *