প্রধান খবর

কেপ ভার্দেতে শিক্ষা সফরের বাস খাদে পড়ে চালকসহ ২৫ শিশু-কিশোর নিহত

পশ্চিম আফ্রিকার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দেতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২৫ জনের সলিল সমাধি ঘটেছে, যাদের অধিকাংশই কোমলমতি শিশু ও কিশোর-কিশোরী। শিক্ষাসফর শেষে ফেরার পথে যাত্রীবাহী একটি বাস হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গভীর পাহাড়ি খাদে পড়ে গেলে এই মর্মান্তিক বিপর্যয় ঘটে। এই ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন, যাদের অনেকের শারীরিক অবস্থাই অত্যন্ত আশঙ্কাজনক। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে রাতভর উদ্ধার অভিযান চালিয়ে ভুক্তভোগীদের উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় প্রশাসন ও বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনাটি ঘটে কেপ ভার্দেস ফোগো দ্বীপে। মোট ৩২ জন যাত্রী নিয়ে বাসটি পিকো দো ফোগো আগ্নেয়গিরির মৃত জ্বালামুখের কাছে অবস্থিত চা দাস কালদেইরাস গ্রামে আয়োজিত শিক্ষা সফর শেষে সাও ফিলিপ শহরের দিকে ফিরে আসছিল। পথিমধ্যে হঠাৎ গাড়িটি সড়ক থেকে ছিটকে একটি দুর্গম ও পাথুরে উপত্যকার গভীর গিরিখাতে আছড়ে পড়ে। খবর পেয়ে জরুরি উদ্ধারকারী দল তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে পৌঁছে ধ্বংসস্তূপ থেকে হতাহতদের উদ্ধারে অভিযান পরিচালনা করে।

অনুসন্ধানে জানা যায়, ওই বাসের চালক প্রতি বছর নিজ উদ্যোগে ও নিজস্ব অর্থায়নে স্থানীয় স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপহার হিসেবে দেশের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে শিক্ষাসফরে নিয়ে যেতেন। প্রতি বছরের ন্যায় এবারও তিনি শিশুদের নিয়ে আনন্দভ্রমণে বের হয়েছিলেন। তবে ফিরতি পথেই ঘটে ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা, যাতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে প্রাণ হারিয়েছেন মহানুভব ওই বাসচালক নিজেও। ঘটনাটি উন্মোচিত হওয়ার পর সমগ্র দ্বীপজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

সাধারণত উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা ও মানসম্মত যানবাহনের কারণে কেপ ভার্দেতে এ ধরনের সড়ক দুর্ঘটনা অত্যন্ত বিরল। ফলে এই নজিরবিহীন দুর্ঘটনায় পুরো দেশজুড়ে চরম শোক ও স্তব্ধতা বিরাজ করছে। ঘটনার পরদিনই নিহতদের মধ্য থেকে বেশ কয়েকজনকে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে এবং বাকিদের শেষকৃত্যের প্রস্তুতি চলছে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে প্রাথমিক তদন্ত শুরু করেছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *