গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে একটি আবাসিক হোটেলে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। ‘দক্ষিণ বাংলা গেস্ট হাউজ’ নামের ওই প্রতিষ্ঠানে পরিচালিত এ অভিযানে পাঁচ নারীসহ মোট ১১ জনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের বিভিন্ন অংকের জরিমানা এবং অনাদায়ে বিভিন্ন মেয়াদের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। একই সঙ্গে বিতর্কিত ওই গেস্ট হাউজটি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপস্থিতিতে সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক অনিরুদ্ধ দেব রায়। অভিযান সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ওই গেস্ট হাউজটিতে অবৈধ ও অসামাজিক কার্যকলাপ চলে আসছিল— এমন সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই সেখানে হানা দেয় ভ্রাম্যমাণ আদালত। ঘটনাস্থল থেকে অনৈতিক কাজে লিপ্ত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় পাঁচ নারীসহ মোট ১১ জনকে হাতেনাতে আটক করা হয়।
পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে দোষীদের বিভিন্ন মেয়াদে অর্থদণ্ড ও কারাদণ্ড দেওয়া হয়। সাজাপ্রাপ্তদের মধ্যে তানিয়া আক্তারকে ৪০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া শীলা আক্তার, শরীফুল ইসলাম, মারিয়া ও মুরসালিন শেখকে ১৫ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত। প্রীতি ও লিজা আক্তারকে ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং শহীদ মাহমুদ ও কাদের চৌধুরীকে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড প্রদান করা হয়।
ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের মধ্যে মাহমুদ ফকিরকে সাত দিনের কারাদণ্ড এবং অনৈতিক কার্যকলাপে সহযোগিতার দায়ে গেস্ট হাউজের ম্যানেজার সিজান ফকিরকে এক মাসের কারাদণ্ড দিয়ে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।
অভিযানের বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট অনিরুদ্ধ দেব রায় জানান, স্থানীয়দের নানা অভিযোগের ভিত্তিতেই দক্ষিণ বাংলা গেস্ট হাউজে অভিযান চালানো হয় এবং অভিযোগের সত্যতা মিলায় তাৎক্ষণিক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, গত বছরের নভেম্বর মাসেও ঠিক একই অভিযোগে ওই প্রতিষ্ঠানটিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। কিন্তু সংশোধন না হয়ে পুনরায় একই অপরাধের পুনরাবৃত্তি ঘটানোয় এবার অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং হোটেলটি সিলগালা করা হয়েছে।

