প্রধান খবর

পর্দার আড়ালে থেকেই ইরানকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন মোজতবা খামেনি

ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও শান্তি আলোচনার আবহেই এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তিনি জানিয়েছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি দৃশ্যপটের আড়ালে থাকলেও বর্তমানে আগের চেয়ে অনেক বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছেন। একই সঙ্গে মার্কিন এই শীর্ষ কূটনীতিক দাবি করেছেন, তেহরান তাদের পরমাণু কর্মসূচির এমন কিছু সংবেদনশীল বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে সম্মতি জানিয়েছে, যা ইতিপূর্বে সম্পূর্ণ ‘অফ-লিমিটস’ বা আলোচনার অযোগ্য বলে বিবেচিত হতো।

গত মঙ্গলবার (২ জুন) মার্কিন সিনেটের বৈদেশিক সম্পর্ক বিষয়ক কমিটির এক শুনানিতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই বিস্ফোরক তথ্য সামনে আনেন। কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, গত ৮ এপ্রিল দুই দেশের মধ্যে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হওয়ার পর থেকে বর্তমানে পর্দার আড়ালে এই শান্তি আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত যুদ্ধের প্রথম দিন মার্কিন বিমান হামলায় ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা নিহত হওয়ার পর থেকে মোজতবা খামেনিকে আর কখনো জনসমক্ষে দেখা যায়নি। তবে ওয়াশিংটনের গোয়েন্দা ও কৌশলগত দাবি অনুযায়ী, তিনি কেবল জীবিতই নন, বরং দেশটির গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণে গভীর ও নিবিড়ভাবে যুক্ত রয়েছেন।

সিনেট কমিটিকে অবহিত করতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাছে এমন কিছু সুনির্দিষ্ট ইঙ্গিত ও তথ্য রয়েছে যা প্রমাণ করে, মোজতবা খামেনি ক্রমান্বয়ে রাষ্ট্রীয় নীতি নির্ধারণে নিজের সম্পৃক্ততা বাড়াচ্ছেন। তবে নিরাপত্তার স্বার্থে তাঁর সমস্ত যোগাযোগ ও নির্দেশনা এখন পর্যন্ত সরাসরি মৌখিক বা চাক্ষুষ নয়, বরং লিখিত আকারে এবং বিশ্বস্ত মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমেই সম্পন্ন হচ্ছে।”

মার্কিন প্রশাসনের জন্য এই মুহূর্তে পরমাণু ইস্যুতে ইরানের দীর্ঘদিনের অনমনীয় অবস্থানের পরিবর্তনকে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে দেখা হচ্ছে। রুবিও মার্কিন আইনপ্রণেতাদের জানান, ইরান প্রশাসন তাদের পরমাণু কর্মসূচির এমন কিছু চরম সংবেদনশীল দিক নিয়ে টেবিল টকে বসতে রাজি হয়েছে, যা নিয়ে অতীতে কোনো ধরনের আলোচনার সুযোগই দিত না তেহরান।

ভূরাজনৈতিক এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সংশোধিত প্রস্তাব তেহরানের কাছে পাঠানো হয়েছে। তবে কূটনৈতিক সূত্রগুলো আভাস দিয়েছে, সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ট্রাম্প এই শর্তগুলো আরও বেশি কঠোর করেছেন।

এদিকে ওয়াশিংটনের এই দাবি ও প্রস্তাবের বিপরীতে তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্ক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গেছে। ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা ‘মেহর’ একটি নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, তেহরান এখনো যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া সর্বশেষ প্রস্তাবটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে যাচাই-বাছাই করছে। তবে গত কয়েকদিন ধরে ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের কোনো সরাসরি যোগাযোগ হয়নি।

ইরানি ওই কূটনৈতিক কর্মকর্তা জোর দিয়ে বলেন, পূর্ববর্তী যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খেলাফে-ওয়াদা’ বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের ইতিহাস এবং ওয়াশিংটনের প্রতি সাধারণ অবিশ্বাসের কারণে ইরান এই বৈশ্বিক আলোচনা প্রক্রিয়ায় অত্যন্ত কঠোর, দৃঢ় ও সতর্ক অবস্থান গ্রহণ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *