প্রধান খবর

আসামে দুই দিনে ১১০০ বাঙালি মুসলিম পরিবার উচ্ছেদ: গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ১০টি মসজিদ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের নগাঁও, হোজাই এবং গোলাঘাট জেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চল ভূমি উদ্ধারের নামে এক ব্যাপক ও কঠোর উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। মাত্র দুই দিনের এই ঝটিকা অভিযানে অন্তত ১ হাজার ১০০টিরও বেশি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যাদের নিরঙ্কুশ অধিকাংশই বাংলাভাষী মুসলিম সম্প্রদায়ের। অত্যন্ত চাঞ্চল্যকর এই অভিযানের সময় উচ্ছেদকৃত এলাকায় থাকা অন্তত ১০টি মসজিদ বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কঠোর নিরাপত্তার চাদরে মোড়া অবস্থায় নগাঁও জেলার লুতুমারী লংজাপ সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে রোববার ৫শ থেকে ৬শ পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়। এর ঠিক আগের দিন একই জেলার বিভিন্ন অংশ সহ হোজাইতে ১৫২টি এবং গোলাঘাটে ৫৯টি পরিবারসহ মোট ৫৪৭টি পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। এভাবে ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে দুই দিনে মোট ১১০০-এর বেশি পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়েছে।

উচ্ছেদ হওয়া স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল নূর সংবাদমাধ্যমকে জানান, ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমলের প্রচলিত ‘তাউঙ্গিয়া’ ব্যবস্থার অধীনে ফরেস্ট ডিপার্টমেন্টের দিনমজুর হিসেবে কাজ করা তাঁদের পূর্বপুরুষদের তৎকালীন সময়ে এই অঞ্চলে পুনর্বাসিত করা হয়েছিল। গুয়াহাটি হাইকোর্টে সরকারের এই উচ্ছেদ আদেশের বিরুদ্ধে রিট আবেদন করা হলেও, আদালত সংরক্ষিত বনাঞ্চল সুরক্ষার স্বার্থে তাঁদের ৩০ দিনের মধ্যে বসতি খালি করার নির্দেশ দেয়। আইনি লড়াইয়ে সুরাহা না মেলায় শেষ পর্যন্ত এই বড় ধরনের উচ্ছেদ বিপর্যয় ঘটে।

অন্যদিকে, আসাম রাজ্য সরকারের দাবি অনুযায়ী, সরকারি এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চলীয় ভূমি অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে মুক্ত করতেই এই ধারাবাহিক উচ্ছেদ অভিযান চালানো হচ্ছে। সরকারের দাপ্তরিক পরিসংখ্যান বলছে, আসামে ক্ষমতাসীন বর্তমান বিজেপি সরকারের এক দশকের শাসনকালে সরকারি জমি থেকে সর্বমোট প্রায় ১৯ হাজার পরিবারকে উচ্ছেদ করা হয়েছে, যার একটি বড় অংশই মুসলিম জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এই বিপুল পরিমাণ মানুষকে উচ্ছেদের নেপথ্যে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে বলে সমালোচনা করলেও প্রশাসন তাদের বনভূমি রক্ষা নীতিতে অনড় রয়েছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *