দক্ষিণ-পশ্চিম কলম্বিয়ায় একটি সোনার খনি ভয়াবহ ধসের ঘটনায় অন্তত ১৪ জন খনিশ্রমিক নিহত হয়েছেন। হৃদয়বিদারক এই দুর্ঘটনায় আরও অন্তত সাতজন গুরুতর আহত হয়েছেন। এছাড়াও ঘটনার পর থেকে এখনও ১২ থেকে ১৫ জন শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। সোমবার (১৯ অক্টোবর) স্থানীয় কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দুর্ঘটনাটি ঘটেছে কলম্বিয়ার নারিনো বিভাগের সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে পৌরসভার গ্রামীণ এলাকা চামবেরোতে। নারিনো বিভাগের দুর্যোগ মোকাবিলা কর্মকর্তা হোর্হে তোভার কাস্তিয়ো জানান, খনি ধসের পর থেকেই স্থানীয় পৌরসভার তত্ত্বাবধানে উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রম শুরু হয়। তবে অঞ্চলটি চরম দুর্গম হওয়ায় উদ্ধারকাজে মারাত্মক ব্যঘাত ঘটছে।
সান্তা বারবারা দে ইসকুয়ান্দে এলাকাটি মূলত ঘন রেইনফরেস্টে ঘেরা। সড়কপথে সেখানে পৌঁছানোর কোনো সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থা নেই; যাতায়াতের একমাত্র মাধ্যম ছোট উড়োজাহাজ কিংবা নৌকা। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে সেখানে উদ্ধারকারী দল ও জরুরি চিকিৎসাসামগ্রী পৌঁছাতে চরম বেগ পেতে হচ্ছে।
নারিনোর গভর্নর লুইস আলফোনসো এসকোবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় দুর্ঘটনাকবলিত খনিটিকে ‘অনানুষ্ঠানিক’ বা অবৈধ হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই মুহূর্তে তাঁদের প্রধান অগ্রাধিকার হলো মানুষের জীবন রক্ষা করা, নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধার করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়িয়ে জরুরি সহায়তা নিশ্চিত করা।
উল্লেখ্য, কলম্বিয়ার গ্রামীণ অঞ্চলগুলোতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সরকারি তদারকি ছাড়াই এমন হাজার হাজার অনানুষ্ঠানিক খনি পরিচালিত হয়ে থাকে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাব ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশের কারণে সেখানে প্রায়শই এ ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটে। এর আগে গত আগস্টেও নারিনো বিভাগের পলিকারপা এলাকায় অনুরূপ এক খনি দুর্ঘটনায় ১৩ জন শ্রমিকের প্রাণহানি ঘটেছিল।

