বাংলাদেশে সম্পূর্ণ শান্তিপূূর্ণ ও সুসংহত পরিবেশে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা তাদের সর্ববৃহৎ ধর্মীয় উৎসব দুর্গাপূজা উদযাপন করতে পারছেন-এটি আমাদের আবহমান কালের ধর্মীয় সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সহাবস্থানের এক অনন্য উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভেরিফায়েড পেজে দেওয়া এক বিশেষ বার্তায় রাষ্ট্রপতি এই আশাবাদ তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বিশ্বে যখন চতুর্দিক সংঘাত, হানাহানি ও হিংসা-বিদ্বেষের তাণ্ডব বিরাজ করছে, সেখানে বাংলাদেশে সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হওয়া সত্যিই প্রশংসনীয়।
এর আগে গত রোববার (১৮ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষ্যে ঐতিহ্যবাহী রমনা কালী মন্দির পরিদর্শনে গিয়ে রাষ্ট্রপতি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, “আমরা পরম গর্বের সঙ্গে বলতে পারি, বাংলাদেশে যেভাবে অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও সামাজিক সৌহার্দ্য বজায় থাকে, তা বিশ্বজুড়ে বিরল।” তিনি আরও যোগ করেন, দুর্গাপূজার মূল সুরই হলো সততা, ন্যায়বিচার, পারস্পরিক শান্তি ও মানবকল্যাণ। ইতিহাসে বারবার অসুরেরূপী অশুভ শক্তির আবির্ভাব ঘটেছে এবং এদেশের সাধারণ মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিবার তাদের পরাস্ত করেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট স্মরণ করিয়ে দিয়ে রাষ্ট্র প্রধান বলেন, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় এই পবিত্র রমনা কালী মন্দিরটি ধ্বংস করার নির্মম চেষ্টা চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা রাজনৈতিক মহলও এর ঐতিহ্য রক্ষায় ব্যর্থ হয়। অবশেষে ২০০১ সালে বেগম খালেদা জিয়ার নির্দেশে এটি পুনরায় প্রতিষ্ঠিত ও পুরোনো ঐতিহ্যে ফিরিয়ে আনা হয়। এ সময় দেশের সার্বিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় অঙ্গনে চলা নানা অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সকলকে সচেতন থাকার জোর আহ্বান জানান তিনি।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যমান যে কোনো সমস্যার স্থায়ী সমাধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে বলে আশ্বস্ত করেন রাষ্ট্রপতি। পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, মন্দির পরিচালনা কমিটির সভাপতি অর্পনা রায় দাস এবং সাধারণ সম্পাদক মিল্টন বৈদ্যসহ ধর্মীয় সংগঠনের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

