সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে দেওয়া নিজের চরম বিতর্কিত মন্তব্যের জন্য আনুষ্ঠানিক দুঃখ প্রকাশ করে ক্ষমা চেয়েছেন মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিএনপি নেতা কামরুজ্জামান রতন। একই সঙ্গে তিনি নিজের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যটি নিঃশর্তভাবে পূর্ণাঙ্গ প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন।
আজ সোমবার (১৯ অক্টোবর) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক বিশেষ বিবৃতিতে এ ক্ষমা প্রার্থনা ও দুঃখ প্রকাশ করেন এই সংসদ সদস্য।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি এক বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে মতামত জানাতে গিয়ে কামরুজ্জামান রতন হুট করেই বলে বসেন, “আমি এই পাপের লাশ বাংলাদেশে আসুক তা চাই না।”
তার এই আপত্তিকর মন্তব্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর দেশ-বিদেশে ব্যাপক সমালোচনা ও ক্ষোভের ঝড় ওঠে। বিশেষ করে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজ, মানবাধিকার কর্মী এবং নিহতদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের মাঝে এ নিয়ে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দেয়।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া তীব্র সমালোচনার মুখে দেওয়া ওই ফেসবুক বিবৃতিতে কামরুজ্জামান রতন স্বীকার করেন যে, টকশোতে আলোচনার সময় বিষয়টি নিয়ে অত্যন্ত সংকীর্ণভাবে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে আবেগের বশে তিনি ভুল মন্তব্যটি করে ফেলেছিলেন।
বিবৃতিতে তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে লেখেন, “আমার এই মন্তব্যটি করা একেবারেই ঠিক হয়নি এবং আমি তা পূর্ণাঙ্গভাবে প্রত্যাহার করে নিচ্ছি। আমার এই অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্যের কারণে নিহত ব্যক্তিদের পরিবার-পরিজন এবং আমাদের প্রবাসী ভাইবোনদের মনে যে গভীর কষ্ট ও আঘাত লেগেছে, তার জন্য আমি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি এবং সবার কাছে ক্ষমাপ্রার্থী।”
নিজের ভুল স্বীকার করে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এই সংসদ সদস্য আরও বলেন, মানুষ মাত্রই ভুল হতে পারে, আর নিজের ভুল উপলব্ধি করতে পেরে ক্ষমা চাওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হওয়া পরম করুণাময় মহান আল্লাহর এক বিশেষ নিয়ামত। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, সবাই তার এই ভুলকে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।

