প্রধান খবর

ভারতে হাসপাতালের মর্গে মদের আসর বসানোর অভিযোগ : চিকিৎসক বরখাস্ত

ভারতের মহারাষ্ট্র রাজ্যের একটি সরকারি হাসপাতালের ময়নাতদন্ত কক্ষে বা মর্গে মদের আসর বসানোর মতো গুরুতর ও লজ্জাজনক ঘটনার সত্যতা মেলায় এক চিকিৎসককে তাৎক্ষণিকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এই ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত ওই চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ঘটনাটি ঘটেছে গত বৃহস্পতিবার রাতে। ওই সময় এক ব্যক্তি তাঁর মৃত স্বজনের ডেথ সার্টিফিকেট বা মৃত্যুর সনদপত্র সংগ্রহ করার জন্য সারারাত হাসপাতালের বাইরে অপেক্ষা করছিলেন। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও কোনো সাড়া না পেয়ে তিনি ময়নাতদন্ত কক্ষের ভেতরে উঁকি দিয়ে দেখেন, দায়িত্বরত চিকিৎসক মদ্যপ অবস্থায় মর্গেই অবস্থান করছেন। কক্ষের ভেতরের টেবিলে খাবার এবং মদের বোতল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকার দৃশ্য দেখে তিনি হতবাক হয়ে যান।

পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা ঘটনার একটি ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেন। ভিডিওটি মুহূর্তেই ইন্টারনেটে ভাইরাল হয়ে পড়লে স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। বিষয়টি পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড় মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশনের (পিসিএমসি) প্রশাসনের নজরে আসলে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

প্রাথমিকভাবে পিসিএমসির অতিরিক্ত কমিশনার কুলদীপ জাঙ্গম অভিযুক্ত চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য কর্মীদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে দ্রুত লিখিত ব্যাখ্যা তলব করেন। তবে চিকিৎসকদের পেশাগত নৈতিকতা এবং হাসপাতালের সার্বিক পবিত্রতা ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে পৌর কমিশনার বিজয় সূর্যবংশী কঠোর অবস্থান নেন এবং ঘটনার পরের দিনই ডা. বৈভব অবিনাশ মাসকে নামের ওই মেডিকেল অফিসারকে বরখাস্তের চূড়ান্ত নির্দেশ জারি করেন।

পৌর প্রশাসন সূত্রে জানানো হয়েছে, অভিযুক্ত চিকিৎসকের এহেন দায়িত্বজ্ঞানহীন ও অবমাননাকর আচরণ মহারাষ্ট্র সিভিল সার্ভিসেস বিধিমালার চরম লঙ্ঘন। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তাঁর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র (চার্জশিট) গঠন করে বিভাগীয় তদন্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এছাড়া সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে ডা. বৈভব পিম্পরি সদর দপ্তর ত্যাগ করতে পারবেন না এবং অন্য কোনো লাভজনক চাকরি বা ব্যবসার সঙ্গেও যুক্ত হতে পারবেন না বলে কঠোর নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে। এই ঘটনার পর সরকারি হাসপাতালের মতো সংবেদনশীল স্থানে নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *