‘পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে’-প্রবাদটি উল্লেখ করে ক্ষমতার দম্ভ ও পুরোনো রাজনীতির চর্চা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ ও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মূল রাষ্ট্র সংস্কারের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কেউ পুরোনো ক্ষমতাকেন্দ্রিক ধারায় ফিরে গেলে বিএনপিকেও জনগণের কাছে কড়া জবাবদিহি করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী রাজনীতি, রাষ্ট্রীয় সংস্কার ও বিএনপির সার্বিক ভূমিকা নিয়ে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক প্রশ্ন তোলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি উল্লেখ করেন, স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার কর্তৃত্ববাদী শাসনের বিরুদ্ধে লড়তে গিয়ে বিএনপির অতীতের অনেক রাজনৈতিক ভুল ও হিসাব-নিকাশ আপাতত সামনে আনা হয়নি। ভেবেছিলেন আগে স্বৈরাচারের পতন হোক, তারপর রাষ্ট্র ও রাজনীতির সব অন্যায়ের হিসাব হবে। কিন্তু এত রক্ত ও আত্মত্যাগের পরও যদি পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্তই ফিরে আসে, তবে সাধারণ মানুষের এই অভূতপূর্ব ত্যাগের মূল্যায়ন কোথায়—সেই প্রশ্ন তোলেন তিনি।
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী স্পষ্ট করে বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট দলের ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি ছিল না; বরং এটি ছিল রাষ্ট্রের প্রকৃত মালিকানা জনগণের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার একটি ঐতিহাসিক দাবি। সংবিধানে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা, স্বাধীন বিচারব্যবস্থা, নিরপেক্ষ নির্বাচনব্যবস্থা, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন, পুলিশের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাই ছিল সংস্কারের মূল ভিত্তি। কেবল খাল খনন বা ফ্যামিলি কার্ডের মতো সীমিত জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি দিয়ে এই মূল রাজনৈতিক সংস্কার পূরণ করা সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পোস্টের শেষাংশে ক্ষমতার দম্ভ নিয়ে সতর্ক করে এই এনসিপি নেতা লেখেন, “পিপীলিকার পাখা গজায় মরিবার তরে, ক্ষমতার দম্ভ মানুষকে এই সত্য ভুলিয়ে দেয়। কিন্তু ইতিহাস বারবার মনে করিয়ে দেয়, জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে উপেক্ষা করে কোনো ক্ষমতাই চিরস্থায়ী হয় না।” তিনি আরও মনে করিয়ে দেন, ২০২৪ সালের সংস্কারই ছিল জনগণের প্রত্যাশার মূল সীমারেখা। সেই সীমা অতিক্রম করে পুরোনো রাজনীতিতে ফিরতে চাইলে জনগণ আবারও তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

