পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়ার ইনানী এলাকার ‘টুপটুপ রিসোর্টে’ সংঘটিত ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পুরো চুয়াডাঙ্গা জেলাজুড়ে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়া এলাকার বাসিন্দা ফারিয়া কবীর (৩৩) এবং তাঁর পাঁচ বছরের শিশুসন্তান ফাইজান। এই আকস্মিক ও করুণ মৃত্যুর পর ফাইজানের চেনা আঙিনা আর খেলার মাঠজুড়ে এখন শুধু কান্নার রোল।
জানা গেছে, ফারিয়া কবীরের স্বামী নুরে আলম একটি ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে (ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল) সিনিয়র মার্কেটিং অফিসার হিসেবে কর্মরত আছেন। চাকরির সুবাদে গত আট বছর ধরে তিনি সপরিবারে চুয়াডাঙ্গা শহরের দক্ষিণ হাসপাতালপাড়ার হারুন অর রশিদের চারতলা বাড়ির তিন তলায় ভাড়া থাকতেন। তাঁদের গ্রামের বাড়ি বরিশালে। গত ১৪ অক্টোবর আনন্দময় একটি অবকাশ যাপনের উদ্দেশ্যে তাঁরা কক্সবাজারে ভ্রমণে গিয়েছিলেন। কিন্তু গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) সকালে ইনানীর ওই রিসোর্টে হঠাৎ আগুন লাগলে কক্ষের ভেতরেই আটকে থেকে মা ও ছেলের করুণ মৃত্যু হয়।
চুয়াডাঙ্গার বাসভবনের প্রতিবেশী ও বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নুরে আলমের পরিবার অত্যন্ত শান্ত ও ভদ্র স্বভাবের ছিল। শিশু ফাইজান প্রতিদিন বাড়ির সামনের ছোট্ট ফাঁকা মাঠে অন্য শিশুদের সঙ্গে ক্রিকেট খেলত এবং তার সাবলীল আচরণে পুরো এলাকা মুখর রাখত। দুর্ঘটনার পর জানা যায়, মায়ের মুখে কেক খাওয়ার বায়না ও অর্ডার করা কেকের স্বাদ গ্রহণ করা আর ভাগ্যে হলো না ফাইজানের। মর্মান্তিক এই অগ্নিকাণ্ডে একই পরিবারের মা ও শিশুসন্তানের প্রাণহানির ঘটনায় পরিচিতজন, প্রতিবেশী ও স্বজনদের মধ্যে শোকে পাথর হয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

