মুম্বাইয়ের ‘ফরেনার্স রিজিওনাল রেজিস্ট্রেশন অফিস’ (এফআরআরও) কর্তৃক আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে দেশ ছাড়ার নোটিশকে আইনিভাবে চ্যালেঞ্জ করেছেন বলিউড অভিনেতা ইমরান খান। ওই নির্দেশনার বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন জানিয়ে তিনি নোটিশটিকে ‘অবৈধ, অযৌক্তিক, কঠোর ও আইনগতভাবে ত্রুটিপূর্ণ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
মামলার বিবরণ ও বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, কোনো সুস্পষ্ট কারণ দর্শানো, সুনির্দিষ্ট আইন লঙ্ঘনের ব্যাখ্যা প্রদান কিংবা আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়েই তড়িঘড়ি করে এই ভারত ছাড়ার নির্দেশ জারি করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ও ওভারসিজ সিটিজেন অব ইন্ডিয়া (ওসিআই) কার্ডধারী ৪৩ বছর বয়সী এই অভিনেতার বিরুদ্ধে ২০২৫ সালের অভিবাসন ও বিদেশি নাগরিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে প্রশাসন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দেশ না ছাড়লে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও নোটিশে সতর্ক করা হয়।
ঘটনার নেপথ্যে জানা যায়, সম্প্রতি মুম্বাইয়ের আগস্ট ক্রান্তি ময়দানে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন ইমরান খান। সেখান থেকে তাঁকে স্বল্প সময়ের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয় এবং পরবর্তী সময়ে এই বহিষ্কারের নোটিশ পাঠানো হয়। অভিনেতার আইনি দলের দাবি, বিদ্যমান ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন বা নিয়মাবলীতে ওসিআই কার্ডধারীদের যেকোনো শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অংশ নেওয়ার ওপর কোনো স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা নেই।
এদিকে ভারতের অভিবাসন ব্যুরো এক বিবৃতির মাধ্যমে জানিয়েছে, ওসিআই কার্ডধারীরা বিশেষ কিছু প্রশাসনিক সুযোগ-সুবিধা পেলেও তারা ভারতীয় পূর্ণ নাগরিক নন। তাই তাদের ভোটদান, নির্বাচনপ্রার্থী হওয়া, সরকারি চাকরি বা নির্দিষ্ট কিছু রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক অধিকারচর্চার সুযোগ নেই। বর্তমানে বোম্বে হাইকোর্টে ইমরান খানের আবেদনের ওপর শুনানি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

