পর্যটন নগরী কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে অবস্থিত ‘টুপটুপ’ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো ১০ জন পর্যটকের পরিচয় মিলিয়ে শনাক্ত করা হয়েছে। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে নারী ও শিশুসহ একই পরিবারের ৬ জন সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া আরও ৬ জন পর্যটক মারাত্মকভাবে আহত হয়েছেন।
শনিবার সকালে কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সংলগ্ন পরিবেশবান্ধব কাঠ ও ইটের সমন্বয়ে নির্মিত তিনতলা ওই রিসোর্টটিতে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত ঘটে। সকালের দিকে অনেক পর্যটক ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় কক্ষ থেকে বের হতে না পেরে ভেতরেই আটকা পড়েন। প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, নিহতের তালিকায় রয়েছেন ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মেলিতা মেহেজাবিন আলভী (২৩), জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের লায়লা জাহান নাবিলা (২৭), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র মো. নাফিস তেহামী, ইসরাত জাহান মালিহা (৩০), নাফিসতা মীম (২৭), ফারিয়া কবির (৩৩), শিশু ফায়িজান আহম্মেদ (৫), শিক্ষিকা নাসরিন আক্তার মুক্তা (২৯), জিহাদ হাওলাদার ও তারিকুল ইসলাম।
অগ্নিকাণ্ডে আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিসের সূত্র মতে, রিসোর্টের নিচতলার রান্নাঘর থেকে বিকট শব্দে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই তা পুরো ভবনে ছড়িয়ে পড়ে। ৩টি ইউনিটের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হলেও অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
প্রশাসনের তদন্ত ও ফায়ার সার্ভিসের বক্তব্য অনুযায়ী, রিসোর্টটির কোনো বৈধ অগ্নিনিরাপত্তা লাইসেন্স ছিল না এবং ইতিপূর্বে তাদের নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি পরিবেশ ছাড়পত্র না থাকায় ইতোপূর্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে জরিমানা করা হয়েছিল। ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে ৫ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

